এক্সিট পোলের ট্রেন্ডই কি সত্যি হচ্ছে? ১৫ বছরের শাসনের অবসান নিয়ে বড় ভবিষ্যদ্বাণী শমীক ভট্টাচার্যের

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশে বাকি আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা। তার আগেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র বাগযুদ্ধ। অধিকাংশ জাতীয় ও আঞ্চলিক সংবাদ সংস্থার ‘এক্সিট পোল’ বা বুথ ফেরত সমীক্ষায় যখন বাংলায় পদ্ম-শিবিরের জয়ের ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তেই তৃণমূল নেত্রীর ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম হুঁশিয়ারি দিলেন বিজেপি নেতা তথা সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য।

শমীকের ঝাঁঝালো আক্রমণ: বিজেপির এই হেভিওয়েট নেতার দাবি, বাংলার মানুষ এবার পরিবর্তনের সংকল্প নিয়ে ভোট দিয়েছেন। শমীক ভট্টাচার্য সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “দুনিয়ার কোনো শক্তি আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ক্ষমতায় ফেরাতে পারবে না। বাংলার জনতা ১৫ বছরের অপশাসনের জবাব ব্যালট বক্সে দিয়ে দিয়েছে। ৪ মে স্রেফ আনুষ্ঠানিকতা মাত্র।”

এক্সিট পোলের হাওয়া কি উল্টো দিকে? এবারের নির্বাচনে অধিকাংশ বুথ ফেরত সমীক্ষাই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, দীর্ঘ দেড় দশকের ঘাসফুল শাসনের অবসান ঘটতে চলেছে তিলোত্তমায়। এক্সিট পোল অনুযায়ী, রাজ্যে সরকার গড়ার ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে চলেছে বিজেপি। যদিও তৃণমূল শিবির এই সমীক্ষাকে বরাবরই ‘অনুমাননির্ভর’ এবং ‘ভুল’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু শমীক ভট্টাচার্যের মতো নেতারা এখন থেকেই জয়ের ব্যাপারে ১০০ শতাংশ আত্মবিশ্বাসী।

তৃণমূলের পাল্টা জবাব: বিজেপি নেতার এই হুঙ্কারের পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিতে দেরি করেনি শাসক দলও। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, “বিজেপি আকাশকুসুম কল্পনা করছে। ৪ তারিখ বোঝা যাবে জনতা কার সাথে আছে। এক্সিট পোল আগেও অনেকবার ভুল প্রমাণিত হয়েছে।”

বারুদের স্তূপে বাংলা: উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরেই স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা এবং ইভিএম নিয়ে শাসক-বিরোধী তরজায় রাজ্যের পারদ চড়েছে। এর মধ্যে শমীক ভট্টাচার্যের এই “ক্ষমতায় না ফেরার” চ্যালেঞ্জ রাজনৈতিক মহলে নতুন করে ঘি ঢেলেছে। এখন দেখার, সোমবার ইভিএম-এর জাদুর বাক্স কার দাবিকে শিলমোহর দেয়। মমতা কি হ্যাটট্রিকের পর সিংহাসন ধরে রাখতে পারবেন, নাকি শমীকের ভবিষ্যদ্বাণী মেনে বাংলায় ফুটবে পদ্ম? উত্তর আর মাত্র কয়েক সময়ের অপেক্ষা।