ইভিএম পাহারায় কড়া বার্তা! শনিবার সব এজেন্টকে নিয়ে বৈঠকে অভিষেক, কী সেই ‘গোপন’ স্ট্রাকচার?

২০২৬-এর হাইভোল্টেজ নির্বাচনের মহারণ শেষ। এখন শুধু ফল প্রকাশের অপেক্ষা। তবে ৪ মে-র চূড়ান্ত লড়াইয়ের আগে বিন্দুমাত্র ঢিলেমি দিতে রাজি নয় তৃণমূল কংগ্রেস। ভোট মিটলেও কাউন্টিং বা ভোট গণনার প্রতিটি মুহূর্ত যাতে নিশ্ছিদ্র থাকে, তা সুনিশ্চিত করতে এবার ময়দানে নামছেন স্বয়ং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
শনিবারের মেগা বৈঠক: আগামীকাল, শনিবার রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের সমস্ত কাউন্টিং এজেন্টদের নিয়ে এক বিশেষ বৈঠকে বসছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। দলীয় সূত্রের খবর, এই বৈঠক ভার্চুয়ালি ও সশরীরে— উভয় পদ্ধতিতেই হতে পারে। মূল লক্ষ্য একটাই— গণনা কেন্দ্রে এজেন্টরা ঠিক কী কী ভূমিকা পালন করবেন, তার রূপরেখা চূড়ান্ত করা।
অভিষেকের ‘স্পেশাল গাইডলাইন’: সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, এই বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর জোর দিতে পারেন:
-
ইভিএম ও সিসিটিভি নজরদারি: গণনার দিন সকাল থেকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ইভিএম-এর নিরাপত্তা এবং সিসিটিভি ফুটেজে নজর রাখার বিশেষ প্রশিক্ষণ।
-
ফরম-১৭সি মেলানো: বুথ থেকে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে গণনাকেন্দ্রের তথ্যের অমিল থাকলে কীভাবে তৎক্ষণাৎ প্রতিবাদ জানাতে হবে, তার নির্দেশিকা।
-
সতর্কতা ও ধৈর্য: গণনা চলাকালীন বিরোধীদের কোনো প্ররোচনায় পা না দিয়ে কীভাবে শেষ পর্যন্ত মাটি কামড়ে পড়ে থাকতে হবে, সেই মন্ত্রই দেবেন তিনি।
কেন এই তৎপরতা? ভোট পরবর্তী হিংসা এবং স্ট্রংরুম নিয়ে গত কয়েকদিনে শাসক ও বিরোধী— দুই শিবিরের মধ্যেই চাপানউতোর তুঙ্গে উঠেছে। কলকাতার একাধিক কেন্দ্রে ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে গণনার দিন যাতে সামান্যতম প্রযুক্তিগত বা কৌশলগত ভুল না হয়, সেদিকেই পাখির চোখ করছে জোড়াফুল শিবির।
রাজনৈতিক মহলের মতে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই বৈঠকের মাধ্যমে দলের গ্রাসরুট স্তরের কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে চাইছেন। ৪ মে-র সকালে টেবিল ছেড়ে কোনো এজেন্ট যাতে এক মুহূর্তের জন্যও না ওঠেন, সেই কড়া বার্তাই আগামীকাল কালীঘাট থেকে দেওয়া হতে পারে।
এখন দেখার, শনিবারের এই ‘মাস্টার ক্লাস’ গণনার দিন তৃণমূলের জন্য কতটা কার্যকরী হয়।