“পাচন রেডি আছে, শুধু ৪ তারিখের অপেক্ষা!” ভোট পাহারা দিতে দিতেই বিরোধীদের চরম দাওয়াই তৃণমূলের

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের শেষ দফার ভোট মিটতেই ইভিএম-এর পাহারায় কোমর বেঁধে নেমেছেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। তবে এই পাহারায় যেমন রয়েছে সজাগ দৃষ্টি, তেমনই রয়েছে অনুব্রত মণ্ডলের সেই বিখ্যাত ‘পলিটিক্যাল টনিক’। স্ট্রংরুমের বাইরে এখন তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গী ‘গুড়-বাতাসা’। আর সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে তাঁদের সাফ হুঙ্কার— ৪ তারিখের পরেই বিরোধীদের জন্য তৈরি হয়ে যাবে বিশেষ ‘পাচন’।
রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে যেখানে ইভিএম রাখা হয়েছে অর্থাৎ স্ট্রংরুমের বাইরে, সেখানেই ছাউনি খাটিয়ে রাত জাগছেন শাসক দলের কর্মীরা। তাঁদের দাবি, ভোটের ফল ঘোষণা পর্যন্ত এক ইঞ্চি জমিও তাঁরা ছাড়বেন না। বিরোধীরা যাতে কোনোভাবে কারচুপি করতে না পারে, তার জন্য চলছে কড়া নজরদারি।
কী এই গুড়-বাতাসা ও পাচন তত্ত্ব? বীরভূমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা অনুব্রত মণ্ডল এক সময় ‘গুড়-বাতাসা’ আর ‘নকুলদানা’র দাওয়াই দিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল ফেলেছিলেন। এবার তাঁর অনুপস্থিতিতেও সেই একই পথ ধরলেন নিচুতলার কর্মীরা। স্ট্রংরুমের বাইরে পাহারারত এক কর্মীর কথায়, “আমরা এখন শান্তি বজায় রাখতে গুড়-বাতাসা খাচ্ছি আর পাহারা দিচ্ছি। কিন্তু ৪ মে রেজাল্ট বেরোনোর পর যারা অশান্তি করতে আসবে, তাদের জন্য আমাদের ‘পাচন’ তৈরি আছে।”
মাঠে নেমেছে ‘পাহারা কমিটি’: তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশের পরই মূলত এই তৎপরতা বেড়েছে। অনেক জায়গায় মহিলারাও রাত জেগে লাঠি হাতে পাহারা দিচ্ছেন। তাঁদের মতে, ৪ মে পর্যন্ত চোখের পাতা এক করবেন না তাঁরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ফল আসার আগেই এই ধরণের ‘দাওয়াই’ দেওয়ার রাজনীতি মূলত কর্মীদের চাঙ্গা রাখার কৌশল। একদিকে যখন গুড়-বাতাসা খাইয়ে আপ্যায়ন, অন্যদিকে ‘পাচন’ দেওয়ার প্রচ্ছন্ন হুমকি— দুই মিলিয়ে মে মাসের প্রখর গরমে বাংলার রাজনৈতিক পারদ এখন সপ্তমে। এখন দেখার বিষয়, ৪ তারিখের সেই ‘পাচন’ কার কার কপালে জোটে।