বেতন ও পেনশন নিয়ে বিরাট সিদ্ধান্ত! অষ্টম বেতন কমিশনের নতুন ডেডলাইনে কি ভাগ্য খুলবে লক্ষ লক্ষ কর্মীর?

কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের জন্য অষ্টম বেতন কমিশন (8th Pay Commission) নিয়ে বড় খবর সামনে এল। নতুন বেতন কাঠামোর দাবি-দাওয়া এবং মতামত জানানোর সময়সীমা আরও বাড়ানো হয়েছে। ফলে কর্মচারী সংগঠনগুলো এখন আরও বিস্তারিতভাবে তাদের দাবি সরকারের কাছে পেশ করার সুযোগ পাবে। বর্তমানে অষ্টম বেতন কমিশনের প্রতিনিধি দলটি মাঠ পর্যায়ে নেমে বিভিন্ন রাজ্যে কর্মচারী সংগঠনগুলোর সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক শুরু করেছে।

সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, বেতন কাঠামো (Pay Matrix), ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর (Fitment Factor) এবং মহার্ঘ ভাতা (DA) নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা তুঙ্গে উঠেছে। কর্মচারী সংগঠনগুলো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি কমিশনের সামনে তুলে ধরছে।

কী কী দাবি থাকছে এই তালিকায়?

  • বেতন ও ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর: কর্মচারীদের দাবি, মুদ্রাস্ফীতির কথা মাথায় রেখে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ২.৫৭ থেকে বাড়িয়ে ৩.৬৮ করা হোক। যদি এই দাবি মেনে নেওয়া হয়, তবে সরকারি কর্মীদের ন্যূনতম মূল বেতন এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যাবে।

  • পুরনো পেনশন প্রকল্প (OPS): এই মুহূর্তের সবথেকে আলোচিত দাবি হলো ওল্ড পেনশন স্কিম বা পুরনো পেনশন ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা। অনেক রাজ্যেই এটি রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। অষ্টম বেতন কমিশনের এই বৈঠকে পেনশনভোগীদের এই দাবিটি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে কি না, সেদিকেই নজর সবার।

  • ভাতা বৃদ্ধি: আবাসন ভাতা (HRA) এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পুনর্বিন্যাস করার দাবিও জানানো হয়েছে।

মাঠ পর্যায়ে সমীক্ষা: বেতন কমিশনের প্রতিনিধিরা এখন রাজ্য সফরে বেরিয়ে প্রতিটি স্তরের কর্মচারীদের সমস্যার কথা শুনছেন। গ্রাউন্ড লেভেল থেকে পাওয়া এই তথ্যের ভিত্তিতেই তৈরি হবে চূড়ান্ত রিপোর্ট। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ২০২৬-এর এই বেতন কমিশনের সুপারিশ কার্যকর হলে কেবল বেতনই বাড়বে না, বরং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নেও বড় প্রভাব পড়বে।

অষ্টম বেতন কমিশনের এই তৎপরতায় আশার আলো দেখছেন লক্ষ লক্ষ কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারি কর্মী। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকার আর্থিক স্থিতিশীলতার দিকটি কতটা মাথায় রাখে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।