কর্ণাটকের মসনদ নিয়ে দড়ি টানাটানি! ‘আপাতত তাড়াহুড়ো নয়’— মল্লিকার্জুন খাড়গের এক মন্তব্যেই কি সব জল্পনায় ইতি?

কর্ণাটক রাজনীতির অলিন্দে গত কয়েকদিন ধরে যে চোরা স্রোত বইছিল, তা এবার প্রকাশ্য লড়াইয়ের রূপ নিতে শুরু করেছে। মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া এবং উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডি.কে. শিবকুমারের অনুগামীদের মধ্যে ক্ষমতা দখলের লড়াই যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই আসরে নামলেন কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। বৃহস্পতিবার তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কর্ণাটকের নেতৃত্বে পরিবর্তনের বিষয়ে এই মুহূর্তে কোনো ‘তাড়াহুড়ো’ করছে না দল।

কেন এই দোলাচল? ২০২৩-এ কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর থেকেই জল্পনা ছিল যে, পাঁচ বছরের মেয়াদের আড়াই বছর করে মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন সিদ্দারামাইয়া ও শিবকুমার। সেই আড়াই বছরের মেয়াদ বা ‘পাওয়ার শেয়ারিং’ চুক্তির সময়সীমা ঘনিয়ে আসতেই শিবকুমার শিবির থেকে মুখ্যমন্ত্রী বদলের দাবি জোরালো হতে শুরু করে। এমনকি, গত কয়েকদিনে কর্ণাটকের একাধিক বিধায়ক দিল্লিতে দরবার করতেও পৌঁছে গিয়েছেন।

খাড়গের ‘সেফ গেম’: রাজনৈতিক মহলের ধারণা, সামনেই চার রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন এবং রাজ্যসভার লড়াই। এই আবহে দক্ষিণ ভারতের একমাত্র বড় রাজ্যে কোনো ধরণের অস্থিরতা চায় না হাইকমান্ড। খাড়গে বলেন, “আপাতত মুখ্যমন্ত্রী বদলের কোনো প্রশ্নই নেই। সনিয়া গান্ধী এবং রাহুল গান্ধীর সঙ্গে আলোচনার পরেই সব সিদ্ধান্ত হবে।” মূলত দলের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখতেই আপাতত এই ‘ঝুঁকি এড়ানোর’ নীতি নিল কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্ব।

ভবিষ্যৎ কী? সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, আগামী ৪ মে’র পর পরিস্থিতি ভিন্ন মোড় নিতে পারে। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়াও মানসিকভাবে প্রস্তুত রয়েছেন যদি হাইকমান্ড তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেয়। তবে ডিকে শিবকুমার যেভাবে ঘর গোছাচ্ছেন, তাতে মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে কর্ণাটক মন্ত্রিসভায় বড়সড় রদবদল বা নেতৃত্বের পরিবর্তন ঘটলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

আপাতত ‘অপেক্ষা করো এবং দেখো’—এই নীতিতেই চলছে কর্ণাটকের কংগ্রেস সরকার। তবে আড়ালে যে বড় কোনো রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রস্তুতি চলছে, তা বলাই বাহুল্য।