‘বহিরাগত’ তাড়াতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গেই দৌড়লেন শুভেন্দু, রাজপথে নজিরবিহীন দৃশ্য!

ভোট মানেই কি ভবানীপুরে টানটান উত্তেজনা? ২০২৬-এর বুধবারের দুপুর যেন সেই চেনা ছবিকেই আরও একবার পর্দায় নিয়ে এল। তবে এবার চিত্রনাট্যে ছিল বড় চমক। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে (Suvendu Adhikari) দেখা গেল কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের সাথে পাল্লা দিয়ে রাজপথে দৌড়তে! লক্ষ্য? তাঁর ভাষায়—এলাকায় লুকিয়ে থাকা ‘বহিরাগতদের’ পাকড়াও করা।
মুক্তদল মোড়ে মেজাজ হারালেন শুভেন্দু
এদিন বেলা ১২টা নাগাদ শুভেন্দু অধিকারীর কনভয় যখন ভবানীপুরের মুক্তদল মোড়ে পৌঁছায়, তখনই পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। অভিযোগ, একদল তৃণমূল মহিলা কর্মী শুভেন্দুর গাড়ি দেখা মাত্রই ‘জয় বাংলা’ এবং ‘চোর-চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। মুহুর্মুহু স্লোগানে মেজাজ হারিয়ে গাড়ি থেকে নেমে পড়েন শুভেন্দু। বিক্ষোভকারীদের সামনে গিয়ে সরাসরি বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন তিনি।
পটুয়াপাড়ায় ‘স্লোগান যুদ্ধ’
মুক্তদল মোড় থেকে শুভেন্দু সরাসরি চলে যান কালীঘাটের পটুয়াপাড়ায়। সেখানেও তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ শুরু হলে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়।
-
তৃণমূলের স্লোগান: ‘চোর-চোর’ ধ্বনিতে কান পাতা দায় হয়।
-
বিজেপির পাল্টা স্লোগান: বিজেপি কর্মীরা চিৎকার করে বলতে থাকেন, ‘পিসি চোর-ভাইপো চোর’। দুই পক্ষের প্রবল চিৎকারে এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। পরিস্থিতি সামলাতে এলাকায় ঢোকে বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী।
রাজপথে বিরোধী দলনেতার ‘দৌড়’
সবচেয়ে নজিরবিহীন দৃশ্যটি দেখা যায় এর পরেই। এলাকায় ‘বহিরাগত’ দুষ্কৃতীরা লুকিয়ে আছে এই দাবি তুলে শুভেন্দু অধিকারী নিজেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের সাথে দৌড়াতে শুরু করেন। রাজপথে ধুতি-পাঞ্জাবি পরে বিরোধী দলনেতার এই দৌড়ানোর ভিডিও মুহূর্তেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ে।
কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ
বিজেপির সরাসরি অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভ্রাতৃবধূ তথা স্থানীয় কাউন্সিলর কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায় পরিকল্পিতভাবে এই অশান্তি পাকিয়েছেন। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, কাজরী দেবী নিজেই কর্মীদের উসকে দিয়ে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে বলেছেন। অন্যদিকে, তৃণমূলের পাল্টা দাবি, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সাথে নিয়ে শুভেন্দু ভোটারদের ভয় দেখাচ্ছেন এবং প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন।
ভবানীপুরের এই ‘ভোট-যুদ্ধ’ যে কেবল ব্যালট বক্সে সীমাবদ্ধ নেই, তা রাজপথের এই দৌড়াদৌড়ি আর স্লোগান লড়াইয়েই স্পষ্ট হয়ে গেল।