এক লহমায় সব শেষ! হস্টেলের পাঁচিল টপকাতে গিয়ে বিদ্যুতের ঝটকায় ছিটকে পড়ল পড়ুয়া, রণক্ষেত্র চত্বর!

হস্টেলের ঘেরাটোপ থেকে মুক্ত হতে চেয়েছিল কিশোর। কিন্তু সেই মুক্তির স্বাদ নেওয়ার আগেই নেমে এল অকাল মৃত্যু। মাঝরাতে হস্টেল থেকে পালানোর চেষ্টা করতে গিয়ে হাইটেনশন তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হলো দশম শ্রেণির এক পড়ুয়ার। এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
🚨 ঠিক কী ঘটেছিল?
ঘটনাটি ঘটেছে হস্টেলের শৌচালয় সংলগ্ন এলাকায়। হস্টেল কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই কিশোর এবং তার কয়েকজন সহপাঠী মিলে গভীর রাতে হস্টেল থেকে পালানোর পরিকল্পনা করেছিল। শৌচালয়ের জানলার একটি ফাঁকা অংশ দিয়ে বাইরে বেরোনোর চেষ্টা করছিল সে। কিন্তু অন্ধকার থাকায় পাঁচিলের গা ঘেঁষে যাওয়া হাইটেনশন বিদ্যুৎবাহী তারটি সে দেখতে পায়নি।
জানলা দিয়ে গলে নামার সময়ই কিশোরের হাত সরাসরি সেই হাইটেনশন তারে স্পর্শ করে। মুহূর্তের মধ্যে ভয়াবহ বিদ্যুতের ঝটকায় সে কয়েক ফুট নিচে ছিটকে পড়ে। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায় ওই পড়ুয়া।
🔍 কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও উত্তেজনা
হস্টেল কর্তৃপক্ষের দাবি, নিয়ম ভেঙে ছাত্ররা পালানোর চেষ্টা করছিল বলেই এই দুর্ঘটনা। তবে ঘটনার খবর জানাজানি হতেই স্থানীয় বাসিন্দারা হস্টেল চত্বরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। উত্তেজিত জনতার প্রশ্ন:
-
হস্টেলের এত কাছে কেন সুরক্ষিত ছিল না হাইটেনশন লাইন?
-
নিরাপত্তা রক্ষীদের নজর এড়িয়ে ছাত্ররা শৌচালয়ের জানলা দিয়ে পালানোর সুযোগ পেল কীভাবে?
-
হস্টেল চত্বরে নজরদারির অভাব ছিল কি?
🚔 তদন্তে পুলিশ
খবর পেয়ে পুলিশ এসে দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দীর্ঘক্ষণ ছাত্রটি সেখানে পড়ে থাকলেও কেউ টের পায়নি। পরে অন্য ছাত্ররা তাকে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে কর্তৃপক্ষকে জানায়। হস্টেলের নিরাপত্তা এবং পরিকাঠামো নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন। দশম শ্রেণির এক প্রতিভাবান ছাত্রের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে সহপাঠী ও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।