উড়ান বন্ধের হুঁশিয়ারি! এভিয়েশন সেক্টরে চরম অস্থিরতা, কেন্দ্র কি বাঁচাবে ডুবতে বসা বিমান সংস্থাগুলোকে?

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা আর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের গ্রাফ এখন ঊর্ধ্বমুখী। আর তার সরাসরি প্রভাব আছড়ে পড়ল ভারতের বিমান পরিষেবায়। পরিস্থিতি এতটাই সঙ্গিন যে, দেশের তিন প্রধান বিমান সংস্থা— এয়ার ইন্ডিয়া (Air India), ইন্ডিগো (IndiGo) এবং স্পাইসজেট (SpiceJet) একজোট হয়ে কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রককে চিঠি পাঠিয়ে বড়সড় বিপদের সংকেত দিয়েছে।

কেন এই ‘জরুরি’ চিঠি? বিমানের জ্বালানি বা ATF (Aviation Turbine Fuel)-এর আকাশছোঁয়া দাম এখন সংস্থাগুলোর গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিঠিতে সংস্থাগুলো জানিয়েছে:

  • ব্যয়ের বোঝা: একটি বিমান চালানোর মোট খরচের প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশই খরচ হয় জ্বালানিতে। বর্তমান চড়া দামে ব্যবসা চালানো কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ছে।

  • পরিষেবা বাতিলের আশঙ্কা: সংস্থাগুলো স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, সরকারের পক্ষ থেকে ট্যাক্স কমানো বা ভতুর্কি না দেওয়া হলে অনেক রুটেই উড়ান সংখ্যা কমিয়ে দেওয়া হবে বা পরিষেবা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হতে পারে।

আপনার পকেটে কত কোপ? জ্বালানির দাম বাড়লে বিমান সংস্থাগুলো সেই বোঝা যাত্রীদের ওপর চাপাতে বাধ্য হয়। গত কয়েক মাসে ইতিমধ্যেই অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের টিকিট ২০-৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মে মাসের শুরুতে ফের দাম বাড়লে সাধারণ মানুষের জন্য বিমানে চড়া বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কেন্দ্রের কাছে আর্জি: বিমান সংস্থাগুলো চিঠিতে কেন্দ্রকে অনুরোধ করেছে যাতে অবিলম্বে জ্বালানির ওপর থেকে আবগারি শুল্ক (Excise Duty) কমানো হয়। পাশাপাশি রাজ্যগুলোকে ভ্যাট (VAT) কমানোর জন্য সুপারিশ করতে বলা হয়েছে।

ভারতের ক্রমবর্ধমান পর্যটন শিল্প এবং ব্যবসার ক্ষেত্রে বিমান পরিষেবা মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করে। এখন মোদী সরকার এই সংকটে কোনো ‘রেসকিউ প্যাকেজ’ দেয় কি না, নাকি যাত্রী সাধারণকেই সেই চড়া মাসুল গুণতে হবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।