অবাধ ভোট নাকি বড় কোনো ছক? দ্বিতীয় দফার ৪৮ ঘণ্টা আগে রাজ্যে ধড়পাকড় তুঙ্গে, পুলিশের জালে সহস্রাধিক

আগামী ২৯ এপ্রিল বাংলার ভাগ্য নির্ধারণের দ্বিতীয় দফার লড়াই। আর এই হাই-ভোল্টেজ নির্বাচনের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে রাজ্যজুড়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়তে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক পুলিশি ধরপাকড়। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিনে গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫৪৩-এ।

কেন এই গণ-গ্রেপ্তার?

দ্বিতীয় দফার নির্বাচন যাতে কোনোভাবেই অশান্তির ছায়ায় ঢাকা না পড়ে, তার জন্য জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে কমিশন। পুলিশ সূত্রে খবর:

  • অশান্তি রুখতে সতর্কতা: মূলত দাগি অপরাধী, জামিন অযোগ্য পরোয়ানা থাকা ব্যক্তি এবং এলাকায় অশান্তি ছড়াতে পারে এমন সন্দেহভাজনদের তালিকা তৈরি করে এই অভিযান চালানো হয়েছে।

  • বেআইনি অস্ত্র ও মদ উদ্ধার: ধরপাকড়ের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র এবং মাদক উদ্ধারেও জোর দিয়েছে প্রশাসন।

  • নিরাপত্তা নিশ্চিত করা: ভোটারদের মনে আত্মবিশ্বাস জোগাতে এবং বুথ চত্বরকে ‘ভয়মুক্ত’ রাখতেই এই গণ-গ্রেপ্তার।

সীমান্তে কড়া নজরদারি

দ্বিতীয় দফার ভোটের কেন্দ্রগুলোর ভৌগোলিক অবস্থান মাথায় রেখে আন্তঃরাজ্য এবং আন্তর্জাতিক সীমান্তে নজরদারি বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। নাকা চেকিং থেকে শুরু করে রুট মার্চ— কোনো খামতি রাখতে চাইছে না কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশ।

কমিশনের কড়া বার্তা

নির্বাচন কমিশনের একজন উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, “শান্তিপূর্ণ ও অবাধ নির্বাচন আমাদের প্রধান লক্ষ্য। যারাই আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধেই কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এই ১৫৪৩ জনের গ্রেপ্তারি সেই কড়া বার্তারই প্রতিফলন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

এখন দেখার, এত নিরাপত্তার কড়াকড়িতে আগামী ২৯ এপ্রিল কতটা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয় বাংলার দ্বিতীয় দফার নির্বাচন।