নিরাপত্তার কড়াকড়ি ভুলে উত্তর কলকাতায় মোদী ম্যাজিক! ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে পুজো সেরে যা করলেন প্রধানমন্ত্রী…

নির্বাচনী প্রচারের রণকৌশলের মাঝেই ধরা দিলেন এক আধ্যাত্মিক নরেন্দ্র মোদী। উত্তর কলকাতার অন্যতম প্রাচীন এবং ঐতিহ্যবাহী ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে পুজো দিলেন প্রধানমন্ত্রী। রোড-শো চলাকালীন হঠাৎ করেই গাড়ি থামিয়ে মন্দিরে প্রবেশ করেন তিনি। কোনো জাঁকজমক নয়, বরং সাধারণ ভক্তদের মতোই নিষ্ঠাভরে পুজো সারলেন প্রধানমন্ত্রী।
৩০০ টাকার ডালায় ভক্তি নিবেদন: সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রীর পুজোর ডালটি ছিল অত্যন্ত সাধারণ। মাত্র ৩০০ টাকার বিনিময়ে কেনা সেই ডালায় সাজানো ছিল রজনীগন্ধা, পদ্ম ফুল এবং মহাদেবের প্রিয় আকন্দ ফুলের মালা। প্রধানমন্ত্রী নিজেই সেই ডালা হাতে নিয়ে গর্ভগৃহে প্রবেশ করেন। মন্দিরের সেবাইতদের উপস্থিতিতে শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে সিদ্ধেশ্বরী কালীর আরতি ও পুজো করেন তিনি।
উত্তর কলকাতায় মোদী আবেগ: মন্দির থেকে বেরিয়ে আসার সময় রাস্তার দু’ধারে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েক হাজার মানুষের উদ্দেশ্যে হাত নাড়েন প্রধানমন্ত্রী। জয় শ্রী রাম এবং জয় মা কালী ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে বিধান সরণি চত্বর। উপস্থিত জনতার ভিড়ে কেউ কেউ শঙ্খধ্বনি দিতে থাকেন, আবার কেউ উলুধ্বনি দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। নিরাপত্তার বলয় সামান্য শিথিল করে কিছু ভক্তের প্রণাম ও অভিবাদন গ্রহণ করেন তিনি।
রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক তাৎপর্য: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কলকাতার এই প্রাচীন মন্দিরে পুজো দেওয়ার মাধ্যমে মোদী কেবল নিজের আধ্যাত্মিক সত্ত্বাকেই তুলে ধরলেন না, বরং বাঙালির সংস্কৃতির সঙ্গেও নিজেকে একাত্ম করার চেষ্টা করলেন। বিবেকানন্দের সিমলা স্ট্রিটের বাড়ির খুব কাছেই এই মন্দির হওয়ায় এই সফরের গুরুত্ব নির্বাচনী নিরিখেও অনস্বীকার্য।
এক নজরে প্রধানমন্ত্রীর মন্দির দর্শন:
রজনীগন্ধা ও পদ্ম দিয়ে পুজো দিলেন সিদ্ধেশ্বরী কালীকে।
মন্দিরের সেবাইতদের সঙ্গে কুশল বিনিময় এবং আশীর্বাদ গ্রহণ।
পুজোর ডালার উপকরণে ছিল সাধারণ ভক্তের ছোঁয়া।