১৩ বছরের প্রেম, মন্দিরে বিয়ে আর ১৫ দিনেই খুন! প্রেমিকার লাশ বস্তায় ভরে বাইকে করে নিয়ে গেল ইঞ্জিনিয়ার প্রেমিক!

সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানাবে বাস্তবের এই নিষ্ঠুরতা। ১৩ বছরের গভীর প্রেম, পরিবারের বিরুদ্ধে গিয়ে লড়াই এবং অবশেষে মন্দিরে গোপনে বিয়ে— কিন্তু এই রূপকথার সমাপ্তি ঘটল এক বীভৎস হত্যাকাণ্ডে। বিহারের ছাপড়া জেলায় নিজের চাচাতো বোন তথা স্ত্রী আরাধ্যাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে পেশায় ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার দীপককে।
শৈশবের প্রেম থেকে লিভ-ইন: ১৩ বছরের সফর
অভিযুক্ত দীপক ও মৃত আরাধ্যা সম্পর্কে ভাই-বোন হলেও শৈশব থেকেই তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীপক পাটনায় ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং আরাধ্যা ছিলেন ছাপড়ার একটি স্কুলের শিক্ষিকা। ২০২২ সালে যখন আরাধ্যার পরিবার অন্যত্র তাঁর বিয়ে ঠিক করে, তখন তিনি বিদ্রোহ করে বাড়ি ছাড়েন। এরপর প্রায় তিন বছর ছাপড়ায় দীপকের সাথে লিভ-ইন সম্পর্কে ছিলেন আরাধ্যা।
মন্দিরে গোপন বিয়ে ও বিশ্বাসঘাতকতা
গত ১৩ই মার্চ একটি মন্দিরে ঘটা করে বিয়ে করেন তাঁরা। আরাধ্যা ভেবেছিলেন দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর তিনি তাঁর অধিকার পেয়েছেন। কিন্তু তিনি জানতেন না, দীপক একই সাথে দুই নৌকায় পা দিয়ে চলছিলেন। একদিকে আরাধ্যাকে স্ত্রীর মর্যাদা দিচ্ছিলেন, অন্যদিকে সিওয়ানে বাবার পছন্দ করা অন্য এক মেয়ের সাথে দ্বিতীয় বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। এই প্রতারণার কথা আরাধ্যা জানতে পারলেই শুরু হয় বিবাদ।
প্রথম চেষ্টা ছিল ‘দুর্ঘটনা’ সাজানো
তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, দীপক গত ১লা এপ্রিল থেকেই আরাধ্যাকে খুনের ষড়যন্ত্র করছিল। পরিকল্পনা ছিল হাজিপুরের কাছে রেললাইনে ধাক্কা দিয়ে সেটিকে ‘দুর্ঘটনা’ বা ‘আত্মহত্যা’ বলে চালিয়ে দেওয়ার। কিন্তু অসুস্থতার কারণে সেদিন আরাধ্যা বাইরে না যাওয়ায় প্রথমবার তিনি রক্ষা পান।
১২ই এপ্রিলের সেই বিভীষিকাময় রাত
দীপক হাল ছাড়েনি। ১২ই এপ্রিল আরাধ্যাকে তাঁর গ্রামে নিয়ে গেলে সেখানে দীপকের পরিবার তাঁকে মেনে নিতে অস্বীকার করে। সারাদিনের অশান্তির পর ক্লান্ত আরাধ্যা যখন রাতে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন, তখনই তাঁকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে দীপক। ভোররাতে স্ত্রীর মৃতদেহটি বস্তায় ভরে নিজের বাইকের পেছনে চাপিয়ে ১৫ কিলোমিটার দূরে সীমান্তের ঝোপে ফেলে দিয়ে আসে সে।
বাসর ঘরের বদলে শ্রীঘরে
২১শে এপ্রিল ছিল দীপকের দ্বিতীয় বিয়ের অনুষ্ঠান। একদিকে যখন সানাই বাজছিল, অন্যদিকে নিখোঁজ মেয়ের সন্ধানে আরাধ্যার বাবা হন্যে হয়ে ঘুরছিলেন। পুলিশি তদন্তে দীপকের ফোনের টাওয়ার লোকেশন এবং কল লিস্ট পরীক্ষা করতেই বেরিয়ে আসে আসল সত্য। জেরার মুখে ভেঙে পড়ে দীপক স্বীকার করে, “সে আমার জীবনে মাত্রাতিরিক্ত হস্তক্ষেপ করছিল, তাই তাকে হত্যা করেছি।”