রণক্ষেত্র ভবানীপুর! মমতার খাসতালুকে প্রচারে বাধা শুভেন্দুকে? পুলিশের সামনেই মেজাজ হারিয়ে হুঙ্কার ‘হারাবই’

নন্দীগ্রামের হাইভোল্টেজ লড়াই শেষ হলেও উত্তাপের পারদ কমছে না। শেষ দফার আগে ভবানীপুরের রাজনৈতিক যুদ্ধ এবার কার্যত ব্যক্তিগত লড়াইয়ের রূপ নিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) গড়ে প্রচার করতে গিয়ে চরম উত্তেজনার মুখে পড়লেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। অভিযোগ, পুলিশ এবং প্রশাসনের মদতে তাঁর মিছিলে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং তৃণমূলের নির্বাচনী গান বাজিয়ে উসকানি দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত:
শেষ দফার প্রচার উপলক্ষে ভবানীপুরের অলিতে-গলিতে জনসংযোগ সারছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। পদযাত্রার মাধ্যমে যখন তিনি কালীঘাট সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছান, ঠিক তখনই ঘটে বিপত্তি। অভিযোগ, শুভেন্দুর মিছিল চলাকালীনই হঠাৎ মাইকে বিকট শব্দে বেজে ওঠে তৃণমূলের নির্বাচনী গান। এমনকী, মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির রাস্তা দিয়ে প্রচার করতেও বাধা দেওয়া হয় বিজেপি প্রার্থীকে।
পুলিশকে নজিরবিহীন আক্রমণ:
কালীঘাট ও ভবানীপুর থানার পুলিশের ভূমিকা দেখে নিজেকে আর নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি শুভেন্দু। ভরা মিছিলে পুলিশ অফিসারদের দিকে আঙুল তুলে তীব্র ধমক দিয়ে তিনি প্রশ্ন করেন:
“এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে কথা বলছেন? আপনারা ওঁর বাড়ির দিকে যেতে দেননি, আমি মেনে নিয়েছি। কিন্তু মাইকটা বাজছে কেন? আপনাদের বিরুদ্ধে আমি ওপরমহলে অভিযোগ করব।”
“তৃণমূল নর্দমার জল!”
পরে সংবাদমাধ্যমের সামনে আরও বিস্ফোরক রূপ ধারণ করেন বিজেপি প্রার্থী। ক্ষোভে ফেটে পড়ে তিনি বলেন:
“মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির দিকে প্রচারে যেতে দেয়নি। আমি মেনে নিয়েছি। কিন্তু আমি কাউকে ছাড়ব না। তৃণমূল একটা ইতর… নর্দমার জল। পুলিশ কিছুই করছে না। মমতাকে এভাবে জেতানো যাবে না। হারাব… হারাব… হারাবই!”
চাপানউতোর তুঙ্গে:
শুভেন্দুর এই ‘আক্রমণাত্মক’ ভাষা নিয়ে নির্বাচন কমিশনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ঘাসফুল শিবির। তৃণমূলের দাবি, হারের ভয়েই কুৎসিত ভাষা ব্যবহার করছেন শুভেন্দু। অন্যদিকে বিজেপি শিবিরের পালটা দাবি, পুলিশ পুরোপুরি তৃণমূলের দলদাসের মতো আচরণ করছে, যার বহিঃপ্রকাশই ছিল শুভেন্দুর এই তীব্র প্রতিবাদ। ভবানীপুরের এই উত্তাপ বুঝিয়ে দিচ্ছে, ভোটের ফলাফল যাই হোক, লড়াইয়ের শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত মাঠ ছাড়ছেন না কেউই।