“এ ক্ষতি অপূরণীয়!” বিপ্লব দাশগুপ্তের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, শেষযাত্রায় উপচে পড়া ভিড়!

বাংলার সাংস্কৃতিক জগতে নক্ষত্রপতন। প্রয়াত হলেন বিশিষ্ট অভিনেতা ও বাচিক শিল্পী বিপ্লব দাশগুপ্ত। তাঁর সেই গম্ভীর কণ্ঠস্বর আর সাবলীল অভিনয় দক্ষতা দিয়ে দশকের পর দশক দর্শকদের মুগ্ধ করে রেখেছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্টুডিও পাড়া থেকে নাট্যমঞ্চের অলিতে-গলিতে।
লড়াই ছিল এক অদৃশ্য শত্রুর বিরুদ্ধে: শিল্পীর প্রয়াণের পর তাঁর ব্যক্তিগত লড়াইয়ের কথা সামনে এনেছেন তাঁর স্ত্রী রুমা দাশগুপ্ত। তিনি জানান, গত দেড় বছর ধরে এক দুরারোগ্য ‘অটোইমিউন’ (Autoimmune disease) ব্যাধিতে ভুগছিলেন অভিনেতা। দীর্ঘ চিকিৎসাতেও শেষ রক্ষা হলো না। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যখন শরীরেরই শত্রু হয়ে দাঁড়ায়, সেই কঠিন লড়াই লড়ছিলেন তিনি মুখ বুজে।
স্মৃতিচারণায় প্রসেনজিৎ ও বিশ্বজিৎ: বিপ্লব দাশগুপ্তের প্রয়াণে গভীরভাবে শোকাহত টলিউডের ‘বুম্বাদা’ অর্থাৎ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। তিনি জানান, বিপ্লব বাবুর চলে যাওয়া মানে একটি যুগের অবসান। তাঁর শিল্পসত্ত্বা আগামীর শিল্পীদের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
অন্যদিকে, বর্ষীয়ান অভিনেতা বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী তাঁর দীর্ঘদিনের সহকর্মীকে হারিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি বলেন,
“বিপ্লব শুধু একজন ভালো শিল্পীই ছিলেন না, ছিলেন একজন অসাধারণ মানুষ। তাঁর বাচনভঙ্গি এবং কাজের প্রতি নিষ্ঠা আজ বিরল। এই শূন্যস্থান পূরণ হওয়ার নয়।”
সাংস্কৃতিক জগতের অপূরণীয় ক্ষতি: টেলিভিশন ধারাবাহিক থেকে চলচ্চিত্র— সর্বত্রই নিজের ছাপ রেখে গেছেন বিপ্লব দাশগুপ্ত। বিশেষ করে শ্রুতিনাট্য এবং বাচিক শিল্পে তাঁর অবদান অবিস্মরণীয়। তাঁর প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন রাজ্যের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং তাঁর অসংখ্য গুণমুগ্ধ অনুরাগী।