নির্বাচন ২০২৬: ‘শান্তিপূর্ণ’ তকমা ঘুচিয়ে রণক্ষেত্র বীরভূম-দিনাজপুর! কমিশনকে নালিশ বিজেপির, উত্তপ্ত পরিস্থিতি!

বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় রেকর্ড ভাঙা ভোটিং শতাংশ দেখে নির্বাচন কমিশন যখন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে, ঠিক তখনই সামনে আসছে একের পর এক অশান্তির খবর। কোথাও পোলিং এজেন্টকে পিটিয়ে এলাকাছাড়া করার অভিযোগ, আবার কোথাও ইভিএম (EVM) মেশিন বদলে দেওয়ার মতো গুরুতর দাবি ঘিরে উত্তাল হয়ে উঠল ভোট পরবর্তী পরিস্থিতি।
এজেন্টকে মারধর ও রক্তাক্ত পরিস্থিতি: সবচেয়ে উদ্বেগজনক খবর পাওয়া গেছে বীরভূমের লাভপুর এবং দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জ থেকে। অভিযোগ, কুমারগঞ্জে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু সরকারকে তাড়া করে মারধর করেছে একদল দুষ্কৃতী। অন্যদিকে, বীরভূমের লাভপুরে বিজেপির এক পোলিং এজেন্টের মাথায় গুরুতর চোট লেগেছে। বিরোধীদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতেই শাসকদলের কর্মীরা বুথ দখল ও এজেন্টদের ভয় দেখানোর কাজ চালিয়েছে।
ইভিএম বদলের অভিযোগ ও বিভ্রান্তি: ভোট গ্রহণ পর্ব মিটতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ কিছু ভিডিও ভাইরাল হয়েছে (যার সত্যতা যাচাই করেনি ডেইলিহান্ট), যেখানে অভিযোগ করা হচ্ছে যে স্ট্রং রুমে যাওয়ার পথে ইভিএম মেশিন অদলবদল করা হয়েছে। বিজেপি নেতৃত্ব এই নিয়ে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে। যদিও কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইভিএম সম্পূর্ণ সুরক্ষিত এবং পর্যাপ্ত সিসিটিভি নজরদারির মধ্যেই রাখা হয়েছে।
মুর্শিদাবাদে বোমাবাজি ও উত্তেজনা: প্রথম দফার ভোটে মুর্শিদাবাদের নওদা এবং ডোমকল এলাকাতেও চাপা উত্তেজনা ছিল চরমে। বুধবার রাত থেকেই সেখানে বোমাবাজির খবর মিলেছে। বৃহস্পতিবার ভোট চলাকালীন তৃণমূল এবং অজয় চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দল (AJUP)-এর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ বাধে। পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিতে লাঠিচার্জ করতে বাধ্য হয়।
কমিশনের ভূমিকা: অশান্তির ঘটনায় ইতিমধেই জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছ থেকে রিপোর্ট তলব করেছে নির্বাচন কমিশন। বেশ কয়েকজন অভিযুক্তকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। তবে প্রথম দফার এই হিংসা দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে কমিশনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।