বিহারের তখতে সম্রাট! আস্থা ভোটে জয়ী নতুন সরকার, বিধানসভায় তেজস্বীর ‘পাগড়ি’ খোঁচা ঘিরে তোলপাড়

বিহারের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়! শুক্রবার বিহার বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে আস্থা ভোটে জয়ী হলো সম্রাট চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন সরকার। ভোটাভুটিতে জয় নিশ্চিত হওয়ার পর একদিকে যখন এনডিএ শিবিরে খুশির হাওয়া, ঠিক তখনই বিধানসভার ফ্লোরে দাঁড়িয়ে শাসক দলকে একের পর এক তোপে বিদ্ধ করলেন বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদব।

“নীতীশকে শেষ করেছে বিজেপি” – তেজস্বীর আক্রমণ
আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব তাঁর স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “বিজেপি আসলে নীতীশ কুমারকে রাজনৈতিকভাবে শেষ করে দিতে চেয়েছিল, তাই তাঁকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করা হয়েছে।” তিনি আরও কটাক্ষ করে বলেন, “বিহার এক অদ্ভুত রাজ্য, যেখানে ৫ বছরে ৫ বার সরকার বদল হয়। সরকার যদি স্থিতিশীল না হয়, তবে উন্নয়ন হবে কীভাবে?” এমনকি রাজ্যের কোষাগার খালি হয়ে যাওয়া এবং সরকারি কর্মচারীদের বেতন না পাওয়ার ইস্যু তুলে ধরেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীকে ব্যক্তিগত খোঁচা দিয়ে তেজস্বী বলেন, “সম্রাট চৌধুরী লালুপ্রসাদ যাদবেরই শিষ্য, আমাদের স্কুলের ছাত্র। তবে নিজের পাগড়িটা সামলে রাখবেন, অনেকেই সেদিকে নজর রাখছে।”

মুখ্যমন্ত্রীর পাল্টা জবাব: উন্নয়নের ‘রোডম্যাপ’
তেজস্বীর আক্রমণের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী সাফ জানান, তাঁর সরকার অপরাধ, সাম্প্রদায়িকতা এবং দুর্নীতির (Triple C) সঙ্গে কোনো আপস করবে না। বিহারের উন্নয়নের জন্য একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করেন তিনি:

সীতাপুরম: সীতামঢ়ী জেলার নাম পরিবর্তন করে রাখা হবে ‘সীতাপুরম’।

পাটলিপুত্র টাউনশিপ: রাজধানীর পাটলিপুত্র এলাকায় ৬,০০০ একর জমিতে আধুনিক টাউনশিপ তৈরি হবে।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য: প্রতিটি ব্লকে ডিগ্রি কলেজ এবং প্রতিটি জেলায় বিমানবন্দর (বা হেলিপ্যাড) নির্মাণ করা হবে। এমনকি ভিআইপি নেতাদের সন্তানদেরও সরকারি স্কুলে পড়তে হবে বলে জানান তিনি।

নারী নিরাপত্তা: প্রতিটি মহিলা স্কুল ও কলেজের বাইরে মহিলা পুলিশ অফিসার মোতায়েন করা হবে।

ক্ষতিপূরণ: সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি হলে সরকার এখন থেকে ৪ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেবে।

কোষাগার নিয়ে বিতর্ক
তেজস্বীর ‘খালি কোষাগার’ দাবির পাল্টায় উপ-মুখ্যমন্ত্রী বিজেন্দ্র যাদব জানান, ঋণ নেওয়ার নির্দিষ্ট সীমা থাকলেও সরকারের কোষাগার মোটেও খালি নয়। উন্নয়নমূলক কাজ কোনোভাবেই থমকে থাকবে না।

সব মিলিয়ে, আস্থা ভোটে জয়ী হয়ে সম্রাট চৌধুরী তাঁর গদি শক্ত করলেও, তেজস্বীর কড়া চ্যালেঞ্জ বিহারের রাজনীতিকে আগামী দিনে আরও উত্তপ্ত রাখবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।