“আগে ভারতে এসে তো দেখো!” ট্রাম্পের ‘নরককুণ্ড’ কটাক্ষের মোক্ষম জবাব দিল ইরান, পাশে দাঁড়াল ভারতে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তাল বিশ্ব রাজনীতি। ভারতকে ‘নরককুণ্ড’ বা ‘হেল-হোল’ বলে কটাক্ষ করার পর এবার নয়াদিল্লির পাশে দাঁড়িয়ে ট্রাম্পকে তুলোধোনা করল ইরান। মুম্বই ও হায়দ্রাবাদে অবস্থিত ইরানের কনস্যুলেট জেনারেল মার্কিন প্রেসিডেন্টকে কার্যত ধুয়ে দিয়ে বলেছেন, “কাভি ইন্ডিয়া আকে তো দেখো!” (কখনও ভারতে এসে তো দেখুন)।

ঘটনার সূত্রপাত: কেন চটলেন ট্রাম্প?
মার্কিন রেডিও ব্যক্তিত্ব মাইকেল স্যাভেজের একটি পডকাস্টের প্রতিলিপি শেয়ার করেছিলেন ট্রাম্প। যেখানে ভারত ও চীনকে ‘নরককুণ্ড’ বলে অভিহিত করা হয়। অভিযোগ তোলা হয় যে, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার লোভে এই দেশগুলো থেকে গর্ভবতী মহিলারা আমেরিকার পাড়ি জমান। ট্রাম্প এই মন্তব্যের সমর্থন জানানোয় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। ভারতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়, এই মন্তব্যগুলো ‘অনুপযুক্ত ও অরুচিকর’।

ইরানের জুতসই জবাব: ‘সাংস্কৃতিক ডিটক্স’
ভারতের এই অপমানে চুপ থাকেনি ইরান। মুম্বইয়ের ইরানি কনস্যুলেট জেনারেল সোশ্যাল মিডিয়ায় মহারাষ্ট্রের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি ভিডিও শেয়ার করে ট্রাম্পকে নিশানা করেন। ক্যাপশনে লেখা হয়, “কারও উচিত মিস্টার ট্রাম্পের জন্য একটি একমুখী ‘সাংস্কৃতিক ডিটক্স’-এর ব্যবস্থা করা। এতে ওনার অহেতুক বকবকানি কমবে। আগে ভারত ঘুরে দেখুন, তারপর কথা বলবেন।”

হায়দ্রাবাদের ইরানি কনস্যুলেটও কড়া ভাষায় জানিয়েছে যে, ভারত ও চীন হলো “সভ্যতার আঁতুড়ঘর”। ট্রাম্পকে মনে করিয়ে দেওয়া হয় যে, প্রকৃত ‘নরককুণ্ড’ হলো সেটাই, যেখানকার প্রেসিডেন্ট অন্য সভ্যতা ধ্বংসের হুমকি দেন।

বিতর্কের মুখে ট্রাম্পের ‘ডিগবাজি’
চতুর্দিক থেকে সমালোচনার ঝড় উঠতেই সুর নরম করেছেন ট্রাম্প। নয়াদিল্লির মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে তিনি সাফাই দিয়েছেন যে, ভারত একটি “মহান দেশ” এবং তাঁর এক “অত্যন্ত ভালো বন্ধুর” (প্রধানমন্ত্রী মোদী) নেতৃত্বে এটি পরিচালিত হচ্ছে। যদিও ভারতের বিদেশ মন্ত্রক সাফ জানিয়েছে, ট্রাম্পের আগের মন্তব্যগুলো ভারত-মার্কিন সম্পর্কের বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করে না।