‘গুণ্ডামি সহ্য করব না’, জওয়ানদের হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর! নন্দীগ্রামে কমিশনমুখী দুই শিবির!

প্রথম দফার ভোটের দিনেই পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে রণক্ষেত্র মেদিনীপুর। একদিকে পিংলার ওসির অপসারণ চেয়ে সরব বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, অন্যদিকে হলদিয়া ও নন্দীগ্রামে পুলিশের ওপর শুভেন্দুর ‘প্রভাব’ নিয়ে পাল্টা কমিশনের দ্বারস্থ শাসকদল তৃণমূল।
পিংলার ওসির ওপর খড়গহস্ত শুভেন্দু
এদিন নন্দীগ্রামে ভোট দিয়ে বেরিয়েই পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলা থানার ওসি চিন্ময় প্রামাণিকের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন:
“ভোট মোটের ওপর ভালো হলেও পিংলার ওসি ভীষণ গুণ্ডামি করছেন। ওঁর অবিলম্বে সাসপেনশন দাবি করছি। এছাড়া নন্দীগ্রামে এক মহিলা বিএলও (BLO) ভোটারদের প্রভাবিত করছেন বলে অভিযোগ পেয়েছি। এর শেষ দেখে ছাড়ব।”
শুভেন্দু আরও অভিযোগ করেন, খড়গপুর ও বিনপুরে বিজেপি এজেন্ট ও মণ্ডল সভাপতি বুদ্ধদেব মণ্ডলকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই ‘গুণ্ডামি’ রুখতে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
বিজেপির ‘অঙ্গুলিহেলনে’ পুলিশ? তৃণমূলের পালটা তোপ
শুভেন্দুর অভিযোগের কিছুক্ষণ পরেই সাংবাদিক বৈঠক করেন তৃণমূলের বিদায়ী মন্ত্রী শশী পাঁজা। তাঁর দাবি, হলদিয়া ও নন্দীগ্রামে পরিকল্পিতভাবে সেই সব পুলিশ আধিকারিকদের রাখা হয়েছে যাঁদের সাথে শুভেন্দু অধিকারীর সুসম্পর্ক রয়েছে। তৃণমূলের প্রতিনিধি দল ইতিমধ্যেই মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের কাছে এই নিয়ে নালিশ জানিয়েছে। তাদের দাবি, বিজেপি নেতা পীষূষ পান্ডে নন্দীগ্রামে তৃণমূল নেতাদের গ্রেফতার করার চক্রান্ত করছেন।
নন্দীগ্রামে এজেন্ট নিয়ে তরজা
ভোটের ময়দানের পাশাপাশি লড়াই শুরু হয়েছে ‘এজেন্ট’ নিয়েও। তৃণমূলের দাবি, নন্দীগ্রামের ৫৫টি বুথে বিজেপি কোনও এজেন্টই দিতে পারেনি। যদিও গেরুয়া শিবির এই দাবিকে স্রেফ ‘ভিত্তিহীন গুজব’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
এদিন টোটোয় চেপে ভোট দিতে গিয়ে শুভেন্দু দাবি করেন, কয়েকটি হিন্দু পাড়ায় ভোটারদের ভোট দিতে বাধা দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তাঁর হস্তক্ষেপে সবাই এখন লাইনে দাঁড়িয়েছেন। সব মিলিয়ে ভোট যত এগোচ্ছে, পুলিশ ও প্রশাসনকে ঘিরে তৃণমূল-বিজেপি তরজা ততটাই তীব্র হচ্ছে।