“সব হিসেব হবে ৪ তারিখের পর”-হুমায়ুন পৌঁছতেই উত্তপ্ত নওদা, শুরু চরম বিশৃঙ্খলা

ভোটের শুরু থেকেই মুর্শিদাবাদের নওদায় উত্তেজনা তুঙ্গে। ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ (AJUP)-র প্রধান হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের প্রকাশ্য হাতাহাতির ঘটনায় এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন।

এদিন সকালে নওদার ৯ ও ১০ নম্বর বুথে ঝামেলার খবর পেয়ে পৌঁছান হুমায়ুন কবীর। সেখানে তাঁর কনভয় আটকে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তৃণমূল কর্মীরা। এক পর্যায়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে সরাসরি বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন হুমায়ুন। AJUP প্রার্থী জমিরুল ইসলামের অভিযোগ:

“হামিদ মস্তানের নেতৃত্বে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা আমার ভাই ও কর্মীদের মারধর করেছে। আমাকে বুথে যেতে বাধা দেওয়া হচ্ছে, বাড়ির গেট আটকে দেওয়া হয়েছে।”

রাতভর বোমাবাজি, জখম মহিলা

নওদার শিবনগর এলাকায় রাত থেকেই দফায় দফায় বোমাবাজির খবর পাওয়া গেছে। নামাজ পড়ে ফেরার পথে বোমা ফেটে আহত হয়েছেন এক মহিলা। আক্রান্ত মহিলার সরাসরি অভিযোগ, “হুমায়ুন কবীরের দলের লোকেরাই রাতে এসে বোমা মেরে পালিয়েছে।” এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে, যদিও কেন্দ্রীয় বাহিনী ভোটারদের আশ্বস্ত করে লাইনে ফেরানোর চেষ্টা করছে।

রণংদেহি মেজাজে হুমায়ুন: ৪ তারিখের হুঁশিয়ারি

ঘটনাস্থলেই ধরনায় বসে পড়েন হুমায়ুন কবীর। ক্ষুব্ধ নেতার হুঙ্কার:

“শান্তিপূর্ণ ভোটকে অশান্ত করা হচ্ছে। পুলিশের ব্যাজ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। এর শেষ দেখে ছাড়ব। ৪ তারিখের পর (ফল প্রকাশের দিন) সবকিছুর পাই-পাই হিসেব হবে।”

রিপোর্ট চাইল কমিশন

বৃহস্পতিবার সকালে সিইও (CEO) দফতরে পৌঁছেই নওদার অশান্তি নিয়ে মুখ খোলেন মনোজ আগরওয়াল। তিনি জানান, বোমাবাজির খবর মিলেছে। ভোটকেন্দ্র থেকে কিছুটা দূরে এই ঘটনা ঘটলেও অপরাধীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।