‘২০ বছর ধরে আমিই প্রথম’, চ্যালেঞ্জ ছুড়ে ভোট দিলেন হুমায়ুন; ওদিকে নওদায় বোমাবাজিতে জখম মহিলা!

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফাতেই উত্তপ্ত মুর্শিদাবাদ। একদিকে যখন নিজের মেজাজে ভোট দিয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করছেন ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ (AJUP)-র কর্ণধার হুমায়ুন কবীর, ঠিক তখনই তাঁর দলের বিরুদ্ধে বোমাবাজির অভিযোগে সরব তৃণমূল। অন্যদিকে, ভোটের আগের রাতেই ধর্ষণের অভিযোগে শ্রীঘরে ঠাঁই হয়েছে হুমায়ুনের ভাইপোর। সব মিলিয়ে ভোটের সকালেই নবাবের জেলায় পারদ তুঙ্গে।
‘রেকর্ড’ অক্ষুণ্ণ রাখলেন হুমায়ুন
এদিন সকাল সকাল রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের সোমপাড়া ১ গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ের বুথে ভোট দেন হুমায়ুন কবীর। ভোট দিয়ে বেরিয়ে চিরাচরিত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তিনি বলেন:
“বিগত ২০ বছর ধরে এই বুথে আমিই প্রথম ভোট দিয়ে আসছি। আজও তার ব্যতিক্রম হয়নি। এবার দলীয় কার্যালয়ে বসে সারাদিনের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখব।”
স্টিং ভিডিওকাণ্ড বা দলত্যাগের ধাক্কা যে তাঁর মনোবলে চিড় ধরাতে পারেনি, এদিন হুমায়ুনের শরীরী ভাষাতেই তা স্পষ্ট ছিল।
কেন্দ্রীয় বাহিনীর সামনেই বোমাবাজি, কাঠগড়ায় AJUP
ভোট শুরু হওয়ার ঠিক আগেই রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় নওদা বিধানসভার শিবনগর এলাকা। শিবনগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের মাত্র ৫০ মিটারের মধ্যে ব্যাপক বোমাবাজি হয়। উল্লেখ্য, সেখানে আগে থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন ছিল। এই ঘটনায় এক মহিলা আহত হয়েছেন।
তৃণমূল সাংসদ আবু তাহের খানের সরাসরি অভিযোগ, ভোটারদের ভয় দেখিয়ে বুথবিমুখ করতেই হুমায়ুন কবীরের আশ্রিত দুষ্কৃতীরা এই হামলা চালিয়েছে। ঘটনার সময় কাছেই উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল প্রার্থী সাহিনা মমতাজ খান, তবে তিনি সুরক্ষিত আছেন।
ভাইপো গ্রেফতার, থানা ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি
ভোটের আগের রাতে বড় ধাক্কা খেয়েছেন হুমায়ুন কবীর। তাঁর ভাইপো রাজা শেখকে শক্তিপুর থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রেজিনগর থানায় তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। এই গ্রেফতারিকে ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ ও ‘মিথ্যা মামলা’ বলে দাবি করেছেন AJUP প্রধান। এর প্রতিবাদে তিনি থানা ঘেরাও করার প্রকাশ্য হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।