পারস্য উপসাগরে দাউ দাউ আগুন! ভারতের জাহাজসহ ২টিকে ‘হাইজ্যাক’ করল আইআরজিসি, চরম সংকটে বিশ্ব বাণিজ্য!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ঘটা করে ইরানের সঙ্গে অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণা দিচ্ছেন, ঠিক তখনই কার্যত উল্টো পথে হাঁটল তেহরান। বুধবার বিকেলে রণক্ষেত্রের রূপ নিল বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত জলপথ হরমুজ প্রণালী। ভারতগামী একটি বিশাল পণ্যবাহী জাহাজসহ অন্তত দুটি জাহাজকে মাঝসমুদ্র থেকে আটক করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)।

মাঝসমুদ্রে তাণ্ডব ও গোলাবর্ষণ: আন্তর্জাতিক সমুদ্র চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর দাবি, আটকের আগে জাহাজ দুটি লক্ষ্য করে অতর্কিতে গুলি চালায় ইরানের গানবোট।

  • এপামিনন্ডাস (Epaminondas): লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী এই জাহাজটি দুবাই থেকে ভারতের গুজরাতের মুন্দ্রা বন্দরের দিকে আসছিল।

  • এমএসসি ফ্রান্সেসকা (MSC Francesca): পানামার এই জাহাজটিকেও ঘিরে ফেলে ইরানি নৌবাহিনী।

বর্তমানে জাহাজ দুটিকে ওমান উপসাগরের কাছ থেকে সরিয়ে সরাসরি ইরানের উপকূলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আটক করা হয়েছে জাহাজের নথিপত্র ও পণ্য।

ইরানের কড়া যুক্তি: হামলার দায় স্বীকার করে আইআরজিসি স্পষ্ট জানিয়েছে, এই জলপথ দিয়ে যাতায়াত করতে হলে ইরানের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। তাদের অভিযোগ: ১. জাহাজ দুটি নিয়ম মেনে পারমিট সংগ্রহ করেনি। ২. নেভিগেশন সিস্টেম বা জিপিএস ট্র্যাকিং নিয়ে কারসাজি করে সমুদ্রের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছিল তারা। তেহরানের হুঁশিয়ারি, “হরমুজ প্রণালীতে কোনো রকম নিরাপত্তার অভাব সহ্য করা হবে না।”

বিপাকে ভারত ও বিশ্ব বাণিজ্য: বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস রপ্তানির একটা বড় অংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই পথে ভারতের মুন্দ্রাগামী জাহাজ আটকের ফলে পণ্য সরবরাহ শৃঙ্খল (Supply Chain) মারাত্মকভাবে ধাক্কা খেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর আগে ব্রিটিশ নৌবাহিনীও জানিয়েছিল যে, হরমুজে ইরানি গোলন্দাজ বাহিনী একের পর এক জাহাজে হানা দিচ্ছে।

যুদ্ধবিরতি কি তবে নামমাত্র? পাকিস্তান ও আমেরিকার মধ্যস্থতায় যে শান্তির বার্তা দেওয়া হয়েছিল, এই ঘটনা তাকে সরাসরি বুড়ো আঙুল দেখাল। একদিকে ট্রাম্পের নৌ-অবরোধ, অন্যদিকে ইরানের এই পালটা ‘জাহাজ হাইজ্যাক’—দুই শক্তির লড়াইয়ে এখন ত্রাহি ত্রাহি দশা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর।

নয়াদিল্লির বিদেশ মন্ত্রক পুরো পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। মুন্দ্রাগামী জাহাজের ক্রু সদস্যদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করাই এখন ভারতের প্রধান চ্যালেঞ্জ।