“ডিম খাওয়ার সময় এই ভুলটি করছেন না তো? হার্ট সুস্থ রাখতে কতটা কুসুম খাওয়া নিরাপদ, জেনে নিন”

সকালের জলখাবারে পাতে ডিম থাকবে না, এমনটা ভাবাই যায় না। কিন্তু স্বাস্থ্য সচেতনদের মধ্যে একটা বড় অংশই ডিমের সাদা অংশটুকু খেয়ে কুসুমটা সযত্নে সরিয়ে রাখেন। কারণ একটাই— কোলেস্টেরল। ডিমের কুসুম মানেই কি হার্টের বিপদ? আধুনিক বিজ্ঞান কিন্তু এক্কেবারে উল্টো কথা বলছে।

কুসুম কি সত্যিই ভিলেন? ডিমের কুসুমে ডায়েটারি কোলেস্টেরল থাকে ঠিকই, কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, খাবারের কোলেস্টেরল আমাদের শরীরের রক্তে থাকা কোলেস্টেরলের মাত্রায় খুব সামান্যই প্রভাব ফেলে। বরং লিভার নিজেই শরীরের প্রয়োজনীয় কোলেস্টেরল তৈরি করে। ডিমের কুসুমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, যা হার্টের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।

কুসুম বাদ দিলে কী কী হারাবেন? ডিমের সাদা অংশে শুধু প্রোটিন থাকে, কিন্তু আসল পুষ্টির ভাণ্ডার হলো কুসুম। এতে রয়েছে:

  • ভিটামিন ডি এবং বি-১২: হাড় মজবুত করতে এবং স্নায়ুর কার্যকারিতা বাড়াতে অপরিহার্য।

  • লুটেইন ও জেক্সাথিন: যা চোখের দৃষ্টিশক্তি তীক্ষ্ণ রাখতে সাহায্য করে।

  • কোলিন: মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য এবং স্মৃতিশক্তি উন্নত করতে এর জুড়ি মেলা ভার।

কারা সাবধানে খাবেন? বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন সুস্থ মানুষ দিনে একটি আস্ত ডিম অনায়াসেই খেতে পারেন। তবে যাদের অলরেডি উচ্চ রক্তচাপ, সুগার বা হার্টের পুরনো সমস্যা রয়েছে, তাঁরা সপ্তাহে ৩-৪টির বেশি কুসুম খাবেন না। তবে সাদা অংশটি প্রোটিনের জন্য প্রতিদিন খাওয়া যেতে পারে।

হার্ট সুস্থ রাখার আসল চাবিকাঠি: হার্টের সমস্যার জন্য শুধু ডিমকে দায়ী করা ভুল। বরং ডিম ভাজার সময় মাখন বা অতিরিক্ত তেল ব্যবহার করা হার্টের জন্য বেশি ক্ষতিকর। সেদ্ধ ডিম বা পোচ খাওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।

বিশেষজ্ঞের টিপস: ডিমের কুসুম কোলেস্টেরল বাড়ায় এই ধারণা এখন সেকেলে। ভারসাম্য বজায় রেখে খেলে ডিমের কুসুম আপনার হার্টের বন্ধুও হতে পারে।