“টিকিট কাটার আগে সাবধান! তেলের দামে নাভিশ্বাস, একধাক্কায় ২০,০০০ উড়ান বন্ধের মেগা পরিকল্পনা”

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের (ATF) অগ্নিমূল্য এবার সরাসরি আঘাত হানল আকাশপথে। পর্যটনের ভরা মরসুমের মাঝেই সাধারণ যাত্রীদের জন্য এল অত্যন্ত দুঃসংবাদ। তেলের আকাশছোঁয়া দাম এবং পরিচালন খরচ সামলাতে না পেরে প্রায় ২০ হাজার উড়ান বাতিলের এক বিশাল পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে একটি নামী বিমান সংস্থা। শুধু তাই নয়, খরচ কমাতে নিজেদের বহর থেকে অন্তত ২৭টি বিমানকে স্থায়ীভাবে বসিয়ে দেওয়ার (Grounding) সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কেন এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত? বিমান সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে জেট ফুয়েলের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় মুনাফায় বড়সড় টান পড়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় সংস্থাটির সামনে দুটি পথ ছিল— হয় টিকিটের দাম কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া, অথবা কম লাভজনক রুটে বিমান চলাচল বন্ধ করা। শেষ পর্যন্ত যাত্রীদের কথা মাথায় রেখে দ্বিতীয় পথটিই বেছে নিয়েছে তারা।

পড়ুন বিস্তারিত:

  • উড়ান সংখ্যায় কাঁচি: আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ধাপে ধাপে প্রায় ২০,০০০ ফ্লাইট শিডিউল থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে।

  • বিমান বসিয়ে দেওয়া: ২৭টি বিমানকে গ্রাউন্ডেড করার অর্থ হলো সংস্থার যাত্রী পরিবহণ ক্ষমতা এক ধাক্কায় অনেকটা কমে যাওয়া।

  • কর্মী ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা: বিমান সংখ্যা কমলে তার সঙ্গে যুক্ত পাইলট, কেবিন ক্রু এবং গ্রাউন্ড স্টাফদের কর্মসংস্থান নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

যাত্রীদের ওপর প্রভাব: এই সিদ্ধান্তের ফলে একধাক্কায় কমে যাবে বিমানের সংখ্যা। আর যোগান কমলে স্বাভাবিকভাবেই যেটুকু বিমান চলবে, তার টিকিটের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে যারা আগে থেকে টিকিট বুক করে রেখেছেন, তাঁদের বুকিং বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

সংস্থার বার্তা: সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি একটি অত্যন্ত কঠিন সিদ্ধান্ত। তবে এই মুহূর্তে খরচ নিয়ন্ত্রণে না আনলে পুরো সংস্থাই বন্ধ হয়ে যেতে পারে। বাতিল হওয়া উড়ানের যাত্রীদের রিফান্ড বা বিকল্প কোনো ব্যবস্থা করা হবে কি না, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো নির্দেশিকা পাওয়া যায়নি।

এক নজরে: তেলের দাম বাড়ার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। আকাশপথে সফরের স্বপ্ন কি তবে এবার আরও দামি হতে চলেছে?