“গণতন্ত্র বিপন্ন! আইপ্যাক অফিসে মমতার উপস্থিতি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ যেন ‘বিনা মেঘে বজ্রপাত’”

ভারতের বিচারবিভাগের ইতিহাসে সম্ভবত এমন কঠোর পর্যবেক্ষণের মুখোমুখি হতে হয়নি কোনো রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানকে। আইপ্যাক (I-PAC) অফিসে কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্ত চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি নিয়ে এবার ক্ষোভ উগরে দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের সাফ পর্যবেক্ষণ, “দেশের কোনো তদন্ত প্রক্রিয়ায় একজন মুখ্যমন্ত্রীর এভাবে সশরীরে ঢুকে পড়ার কোনো দৃষ্টান্ত নেই।”

আদালত কেন এত কঠোর? গত জানুয়ারি মাসে আইপ্যাক-এর অফিসে তল্লাশি চলাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেখানে যাওয়া নিয়ে দায়ের হওয়া এক মামলার প্রেক্ষিতে বুধবার এই মন্তব্য করে শীর্ষ আদালত। বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী:

  • নজিরবিহীন ঘটনা: ভারতীয় গণতন্ত্রে তদন্তকারী সংস্থা যখন তার কাজ করে, তখন একজন মুখ্যমন্ত্রী সেখানে গিয়ে উপস্থিত হওয়া কেবল অনভিপ্রেত নয়, বরং নজিরবিহীন।

  • তদন্তে প্রভাব: সাংবিধানিক পদে থেকে তদন্তের স্থানে হাজির হওয়া মানে পরোক্ষভাবে তদন্তকারী আধিকারিকদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করা।

  • আইনের শাসন: সুপ্রিম কোর্ট মনে করিয়ে দিয়েছে যে, আইন সবার জন্য সমান। পদের দোহাই দিয়ে তদন্তের স্বাভাবিক গতি রুদ্ধ করার চেষ্টা করা হলে তা গণতন্ত্রের মূল স্তম্ভকে দুর্বল করে দেয়।

তৃণমূলের পক্ষে বড় ধাক্কা: নির্বাচনের মুখে সুপ্রিম কোর্টের এই ‘দৃষ্টান্ত নেই’ মন্তব্য কার্যত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নৈতিক অবস্থানের ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিল। বিরোধীরা ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে এই নিয়ে। বিজেপি ও বামেদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী নিজের ক্ষমতার দম্ভে সব সীমা লঙ্ঘন করেছেন, যা আজ সুপ্রিম কোর্টে প্রমাণিত।

নবান্নের অস্বস্তি: যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে যে, মুখ্যমন্ত্রী রাজনৈতিক প্রতিহিংসার প্রতিবাদ জানাতে সেখানে গিয়েছিলেন, কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণের পর সেই যুক্তি ধোপে টিকছে না বলেই মনে করছেন আইনি বিশেষজ্ঞরা।

আদালতের তীক্ষ্ণ প্রশ্ন: “তদন্ত প্রক্রিয়া কি এখন থেকে রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতিতে হবে? এমনটা চলতে থাকলে বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতা কোথায় থাকবে?”