“১৬ জেলা, ১৫২ আসন এবং একটি অদৃশ্য ঝড়! বৃহস্পতিবার বাংলার হাইভোল্টেজ ভোটের আগে কেন এত থমথমে?”

বাংলার রাজনীতির চেনা ছবিটা এবার যেন বদলে গিয়েছে। নেই সেই কানফাটানো মাইক প্রচার, নেই বড় বড় মিছিলে রাস্তা আটকে শক্তি প্রদর্শন। পরিবর্তে ১৬টি জেলার ১৫২টি বিধানসভা আসনে বৃহস্পতিবারের ভোট ঘিরে বইছে এক অদ্ভুত স্তব্ধতা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নিস্তব্ধতাই আসলে এক ‘নীরব বিপ্লবের’ ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ভোটের মানচিত্র ও প্রেক্ষাপট: বৃহস্পতিবার রাজ্যের যে ১৫২টি আসনে ভোট হতে চলেছে, তার মধ্যে রয়েছে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জেলা। কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী:
-
মোট আসন: ১৫২ (১৬টি জেলা জুড়ে বিস্তৃত)।
-
নিরাপত্তার চাদর: যেহেতু অনেকগুলো আসনে ভোট, তাই মোতায়েন করা হয়েছে নজিরবিহীন কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং ড্রোন নজরদারি।
-
সাইলেন্ট ভোটার ফ্যাক্টর: এবার রাজনৈতিক শিবিরের কপালে ভাঁজ ফেলছে আমজনতার নীরবতা। কোনো নির্দিষ্ট দলের পক্ষে হাওয়ার চেয়েও স্থানীয় ইস্যুগুলো বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
কেন একে ‘নীরব বিপ্লব’ বলা হচ্ছে? সাধারণত বাংলার ভোটে যে উন্মাদনা বা হিংসার খবর পাওয়া যায়, প্রথম দফার আগে তার চেয়ে অনেক বেশি চাপা উত্তেজনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ১. ভোটাররা এবার প্রকাশ্যে কোনো দলের হয়ে মুখ খুলছেন না। ২. সাধারণ মানুষের মধ্যে রুটি-রুজি, কর্মসংস্থান এবং দুর্নীতির মতো ইস্যুগুলো নিয়ে ভেতরে ভেতরে ক্ষোভ দানা বেঁধেছে। ৩. গ্রামীণ বাংলায় কোনো বড় সভার চেয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিভৃতে প্রচার করার কৌশল নিয়েছে দলগুলো।
নিশানা কার দিকে? শাসক দল তৃণমূল যখন তাদের উন্নয়নের খতিয়ান নিয়ে মানুষের দুয়ারে পৌঁছেছে, বিজেপি তখন ‘পরিবর্তনের’ ডাক দিচ্ছে। অন্যদিকে, বাম-কংগ্রেস জোটও এই নীরব ভোটারদের নিজেদের দিকে টানতে মরিয়া। বৃহস্পতিবার এই ১৫২টি আসনের ইভিএম-এ যে রায় বন্দি হবে, তা আগামী দফার ভোটগুলোতেও প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষ পর্যবেক্ষণ: ঝড়ের আগের এই নিস্তব্ধতা কি মসনদ উল্টে দেওয়ার ইঙ্গিত? নাকি স্থিতাবস্থাই বজায় থাকবে? উত্তর লুকিয়ে আছে বুথের লাইনে দাঁড়ানো লাখো সাধারণ মানুষের মনে।