“কলকাতার ধুলোর যোগ্য নন আপনারা!” অমিত শাহর অপমানের বদলা নিতে হুঙ্কার মমতার, ভোটে কি এর প্রভাব পড়বে?

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কলকাতাকে ‘বস্তির শহর’ বলা নিয়ে এবার সরাসরি রণংদেহি মেজাজে ধরা দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার নির্বাচনী জনসভা থেকে অমিত শাহর নাম না নিয়েই কড়া আক্রমণ শানালেন তিনি। মমতার স্পষ্ট বার্তা— “যাঁরা কলকাতার ইতিহাস জানেন না, যাঁরা এই মাটিকে চেনেন না, তাঁরাই তিলোত্তমাকে অপমান করার দুঃসাহস দেখান।”
মমতার কড়া আক্রমণ ও যুক্তি:
এদিন জনসভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিক পয়েন্টে শাহর মন্তব্যের পাল্টা জবাব দেন:
-
তিলোত্তমার সম্মান: মমতা বলেন, “কলকাতা তিলোত্তমা। এটি সিটি অফ জয়, এখানে ইউনেস্কো হেরিটেজ আছে। আর দিল্লির নেতারা এসে বলছেন এটি বস্তির শহর? আপনাদের লজ্জা হওয়া উচিত।”
-
দিল্লির সাথে তুলনা: মুখ্যমন্ত্রী চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, “আগে নিজের দিল্লি সামলান। দিল্লিতে দূষণ আর অপরাধের হার কোথায় ঠেকেছে তা সবাই জানে। কলকাতা অনেক বেশি নিরাপদ এবং সুন্দর।”
-
উন্নয়নের খতিয়ান: বস্তি উন্নয়ন এবং বস্তিবাসীদের পাট্টা দেওয়া থেকে শুরু করে পানীয় জলের সুবিধা— রাজ্য সরকার কী কী করেছে, তার খতিয়ান তুলে ধরেন তিনি।
ভোটের বাজারে আবেগের লড়াই
রাজনৈতিক মহলের মতে, অমিত শাহর এই একটি মন্তব্যকে হাতিয়ার করে তৃণমূল ফের ‘বাঙালি আবেগ’ এবং ‘শহুরে গর্ব’ উসকে দিতে চাইছে। ঠিক যেভাবে গত নির্বাচনে ‘বহিরাগত’ তকমা দিয়ে বিজেপিকে পরাস্ত করেছিল ঘাসফুল শিবির, এবারও সেই একই কৌশলে কলকাতার ভোটারদের নিজেদের দিকে টানতে মরিয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতিক্রিয়া:
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই নিয়ে সরব হয়েছেন। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “যাঁরা বাংলাকে ভালোবাসেন না, তাঁরাই বাংলাকে ছোট করার সুযোগ খোঁজেন। ৪ তারিখ মানুষ এর যোগ্য জবাব দেবে।”
অমিত শাহের মন্তব্য কি তবে বুমেরাং হয়ে ফিরবে বিজেপির দিকে? নাকি উন্নয়নের অভাবের অভিযোগেই অনড় থাকবে গেরুয়া শিবির? উত্তর দেবে সময়।