নিরাপত্তার চাদরে তিলোত্তমা! নজিরবিহীন ফোর্সে ভরল কলকাতা, ২২ হাজারেও কি কাটবে অশান্তির মেঘ?

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার আগে কলকাতা শহরকে কার্যত দুর্গে পরিণত করল নির্বাচন কমিশন। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে নজিরবিহীন নিরাপত্তার ছক সাজানো হয়েছে। খাস কলকাতায় মোতায়েন করা হচ্ছে ২২,০০০ আধাসেনা এবং রাজ্য পুলিশের ১০,০০০ সশস্ত্র জওয়ান। তিলোত্তমার বুকে এর আগে কোনো নির্বাচনে এত বড় মাপের নিরাপত্তা বলয় দেখা যায়নি বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
নিরাপত্তার ‘ব্লু-প্রিন্ট’:
রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর সমন্বয়ে শহরজুড়ে এক নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী:
-
বুট মার্চ ও এরিয়া ডমিনেশন: শহরতলি থেকে শুরু করে উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতার অলিগলিতে রাতভর রুট মার্চ করছে কেন্দ্রীয় বাহিনী (CAPF)।
-
কুইক রেসপন্স টিম (QRT): প্রতিটি থানা এলাকায় একাধিক কিউআরটি ভ্যান প্রস্তুত রাখা হয়েছে যাতে যেকোনো গোলমালের খবর পাওয়া মাত্র ৫-১০ মিনিটের মধ্যে বাহিনী পৌঁছাতে পারে।
-
নাকা চেকিং: শহরের সমস্ত প্রবেশপথে এবং গঙ্গাবক্ষে পুলিশি টহলদারি ও তল্লাশি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
কেন এই বিশাল বাহিনী?
বিগত নির্বাচনগুলোতে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ছোটখাটো অশান্তির যে অভিযোগ উঠেছিল, তা মাথায় রেখেই এবার বাড়তি সতর্ক কমিশন। বিশেষ করে স্পর্শকাতর বুথগুলোতে শুধুমাত্র আধাসেনারাই নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে। ড্রোন এবং সিসিটিভি-র মাধ্যমে লালবাজার থেকে সরাসরি মনিটরিং করা হচ্ছে প্রতিটি গতিবিধি।
শান্তিপূর্ণ ভোটের বার্তা
নির্বাচন কমিশনের দাবি, এত বিপুল পরিমাণ বাহিনী মোতায়েন করার মূল উদ্দেশ্য হলো সাধারণ ভোটারদের মনে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনা। ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে এবং কোনো চাপের মুখে না পড়ে বুথে গিয়ে নিজের রায় দিতে পারেন, তার জন্যই এই কঠোর ব্যবস্থা।
আগামীকাল প্রথম দফার ভোটের দিন শহরের এই বিশাল নিরাপত্তা বলয় কতটা কার্যকর হয়, তা নিয়েই এখন জোর চর্চা চলছে সর্বত্র।