“বাংলা জয়ের ব্লু-প্রিন্ট শাহের হাতে!”-ভোট শেষের আগে রাজ্য ছাড়ছেন না চাণক্য, দিলেন বড় প্রতিশ্রুতি!

বঙ্গ জয়ের লক্ষে আর কোনো ফাঁক রাখতে চাইছে না বিজেপি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ—দলের হেভিওয়েট নেতারা এখন ঘরবাড়ি ভুলে কার্যত বাংলাতেই ডেরা বেঁধেছেন। মঙ্গলবার রাতে কলকাতায় দ্বিতীয় দফার ভোটের রণকৌশল ঠিক করতে ম্যারাথন বৈঠক সারলেন অমিত শাহ। চার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এই বৈঠকে শাহ স্পষ্ট বুঝিয়ে দিলেন, ২৯ এপ্রিলের আগে তিনি বাংলা ছাড়ছেন না।

রাতভর চলল ‘চাণক্য’র ক্লাস বাংলার পাঁচটি বিভাগের জেলা নেতাদের নিয়ে এটি ছিল শাহের শেষ প্রস্তুতি বৈঠক। সূত্রের খবর, গ্রাউন্ড লেভেলে প্রচারের কোথায় ফাঁক রয়েছে এবং কোথায় কোথায় দল পিছিয়ে আছে, তার চুলচেরা বিশ্লেষণ করেছেন তিনি। আগামী ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত শাহ এরাজ্যেই থাকছেন, অর্থাৎ দুই দফার ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি বুথের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখবেন খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

কুলটির সভা থেকে বড় ঘোষণা: “বন্ধ হবে ৪ বিয়ে” কুলটির জনসভা থেকে তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন অমিত শাহ। দুর্নীতি ও অনুপ্রবেশ ইস্যুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে নিশানা করে তিনি বলেন, “বিজেপি সরকার গড়লে বাংলা অনুপ্রবেশকারী মুক্ত হবে। রাজ্যে ইউসিসি (UCC) চালু করা হবে এবং এর মাধ্যমে চার বিয়েও নিষিদ্ধ করা হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, রাজ্যে মাফিয়া ও সিন্ডিকেট রাজ খতম করে বড় বড় গুণ্ডাদের জেলে পাঠানো হবে।

কর্মসংস্থানের ‘মাস্টারস্ট্রোক’ বাংলার যুব সমাজের মন জয়ে এদিন বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন শাহ। তিনি ঘোষণা করেন:

  • বিজেপি ক্ষমতায় এলে মেধার ভিত্তিতে প্রতি বছর ১ লক্ষ যুবককে সরকারি চাকরি দেওয়া হবে।

  • কুলটির মতো শিল্পাঞ্চলগুলোর হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনা হবে।

  • অবৈধ খনন বন্ধ করে স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়া হবে।

আজ শাহের মেগা শো আজও বাংলায় জোড়া সভা করবেন অমিত শাহ। প্রথমে হুগলির সপ্তগ্রাম এবং পরে উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়ায় জনসভা করবেন তিনি। ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর হয়ে প্রচারের সময় শাহ আগেই হুঙ্কার দিয়েছিলেন, “এই নির্বাচনে বাংলায় পরিবর্তন আসবেই। দিদির পরাজয় নিশ্চিত।”

ভোটের নির্ঘণ্ট একনজরে:

  • প্রথম দফা: ২৩ এপ্রিল (১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে)।

  • দ্বিতীয় দফা: ২৯ এপ্রিল।

  • ফলাফল ঘোষণা: ৪ মে।

প্রথম দফার ভোট শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে শাহের এই ঝোড়ো ব্যাটিং রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তাপ বাড়িয়ে দিয়েছে।