খিদে কমে যাওয়া না কি ওজন হ্রাস? লিভার ক্যানসার শরীরে বাসা বাঁধলে ঠিক কী কী ঘটে? সতর্ক থাকলেই রক্ষা! সংবাদ প্রতিবেদনc

শরীরকে বিষমুক্ত রাখা থেকে শুরু করে হজম প্রক্রিয়া সচল রাখা— শরীরের ‘পাওয়ার হাউস’ হলো লিভার। প্রতি বছর ১৯ এপ্রিল ‘বিশ্ব লিভার দিবস’ পালিত হয় লিভারের স্বাস্থ্য সম্পর্কে জনসচেতনতা গড়তে। কিন্তু বর্তমান সময়ে অনিয়মিত জীবনযাপন ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। এই মারণ রোগের বড় সমস্যা হলো, শুরুর দিকে এর লক্ষণগুলি এতটাই সামান্য থাকে যে আমরা তা সাধারণ পেটের সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যাই।
চিকিৎসকদের মতে, শরীরে এই ৫টি লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি:
১. হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া ও ক্লান্তি
কোনো রকম ডায়েট বা ব্যায়াম ছাড়াই যদি আপনার ওজন দ্রুত কমতে শুরু করে, তবে তা লিভার ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। লিভারে টিউমার থাকলে শরীরের মেটাবলিজম বদলে যায়, যার ফলে সারাক্ষণ চরম ক্লান্তি অনুভূত হয়।
২. পেটের উপরিভাগে ব্যথা বা ভারী ভাব
পেটের ডানদিকের উপরিভাগে যদি মাঝে মাঝেই ভোঁতা ব্যথা হয় কিংবা সেই জায়গাটা ফুলে বা শক্ত হয়ে আছে বলে মনে হয়, তবে তা লিভারের সমস্যার ইঙ্গিত। লিভার বড় হয়ে গেলে (Hepatomegaly) এমন অস্বস্তি হতে পারে।
৩. জন্ডিসের লক্ষণ
চোখ ও গায়ের চামড়া হলদে হয়ে যাওয়া লিভারের গুরুতর সমস্যার বড় প্রমাণ। লিভারে টিউমার থাকলে পিত্তনালী ব্লক হতে পারে, যার ফলে শরীরে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে গিয়ে জন্ডিস দেখা দেয়।
৪. খিদে কমে যাওয়া ও বমি ভাব
অল্প খেলেই পেট ভরে যাওয়ার অনুভূতি হওয়া কিংবা সব সময় বমি বমি ভাব থাকা মোটেও ভালো লক্ষণ নয়। লিভার সঠিক ভাবে কাজ না করতে পারলে হজমে ব্যাঘাত ঘটে এবং খাদ্যের প্রতি অরুচি জন্মায়।
৫. প্রস্রাব ও মলের রং পরিবর্তন
লিভারের সমস্যার কারণে প্রস্রাবের রং গাঢ় হলুদ বা লালচে হতে পারে। পাশাপাশি মলের রং যদি ধূসর বা ফ্যাকাশে হয়, তবে অবিলম্বে লিভার চেকআপ করানো উচিত।
সতর্কতা ও প্রতিকার
চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে:
মদ্যপান ত্যাগ করতে হবে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং নিয়মিত শরীরচর্চা করা জরুরি।
হেপাটাইটিস বি এবং সি সংক্রমণ থেকে বাঁচতে টিকা নেওয়া এবং সচেতন থাকা প্রয়োজন।
মনে রাখবেন, লিভার ক্যানসার শুরুতে ধরা পড়লে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হওয়া সম্ভব। শরীরে কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে দেরি করবেন না।