কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ! ‘বাঙালিদের মাছ খাওয়া বন্ধ করতে চায় বিজেপি’, মহুয়ার মন্তব্যে হুলুস্থুল

ভোটের মুখে এবার এক নতুন এবং অদ্ভুত অভিযোগ তুলে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিলেন তৃণমূল নেত্রী মহুয়া মৈত্র। তাঁর নিশানায় এবার শুধু বিজেপি নয়, খোদ দেশের মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমার। মহুয়ার দাবি, নির্বাচন কমিশনকে হাতিয়ার করে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে এক অঘোষিত ‘অপারেশন মছছি বনধ’ বা বাঙালিদের মাছ খাওয়া বন্ধ করার পরিকল্পনা করছে।

বিস্ফোরক ‘অপারেশন মছছি বনধ’

সাম্প্রতিককালে দিল্লির চিত্তরঞ্জন পার্কে (CR Park) মাছের বাজার বন্ধ করা নিয়ে যে বিতর্ক দানা বেঁধেছিল, মহুয়া মৈত্র তাকেই এবার বাংলার ভোটের প্রেক্ষাপটে টেনে এনেছেন। তাঁর অভিযোগ:

  • বিজেপি সুপরিকল্পিতভাবে বাঙালিদের খাদ্যাভ্যাস ও সংস্কৃতির ওপর আঘাত হানছে।

  • কেন্দ্রীয় বাহিনীকে এমনভাবে ব্যবহার করা হতে পারে যাতে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিঘ্নিত হয়।

  • মহুয়ার দাবি, ‘অপারেশন মছছি বনধ’-এর মাধ্যমে বিজেপি ও জ্ঞানেশ কুমার মিলে রাজ্যে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছেন যেখানে বাঙালিদের আত্মপরিচয় ও খাদ্যাভ্যাসের অধিকার খর্ব করা হবে।

জ্ঞানেশ কুমার ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা

মহুয়া মৈত্র সরাসরি মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন এবং নির্বাচনী নির্ঘণ্ট ঠিক করার ক্ষেত্রে কমিশনের শীর্ষ পদাধিকারীরা বিজেপির ‘মাস্টার প্ল্যান’ অনুযায়ী কাজ করছেন। মহুয়ার মতে, জ্ঞানেশ কুমার ও বিজেপি মিলে এমন এক ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করেছে যার লক্ষ্য বাংলার তৃণমূল স্তরের মানুষের ভোটাধিকার হরণ করা এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভয় দেখিয়ে তাঁদের কোণঠাসা করা।

বিজেপির কড়া জবাব

মহুয়ার এই ‘মছছি বনধ’ অভিযোগকে হস্যকর বলে উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে পাল্টা বলা হয়েছে:

  • হারের ভয়ে মহুয়া মৈত্র এখন কাল্পনিক গল্প ফাঁদছেন।

  • কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয় শান্তি রক্ষার জন্য, মাছ খাওয়ার অধিকার কাড়ার জন্য নয়।

  • সাম্প্রদায়িক সুড়সুড়ি দিতেই ‘মাছ’ এবং ‘বাঙালি সংস্কৃতি’র দোহাই দিচ্ছে তৃণমূল।

ভোটের ময়দানে এবার কি তবে ‘মাছ’ বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়াবে? না কি এটি স্রেফ রাজনৈতিক তর্জা? আপনার কী মনে হয়? নিচে কমেন্ট করে জানান।