“১৬ জন লিখতে পড়তেই পারেন না”-দ্বিতীয় দফায় নিরক্ষর প্রার্থী বেশি, জেনেনিন রিপোর্ট

ভোট মানেই কি শুধু প্রতিশ্রুতি আর রাজনীতির লড়াই? প্রার্থীদের ব্যক্তিগত যোগ্যতা নিয়েও সাধারণ মানুষের কৌতূহল কম নয়। বঙ্গভোটের প্রথম দফার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার দ্বিতীয় দফার প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার এক চাঞ্চল্যকর চিত্র সামনে এল। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ইলেকশন ওয়াচ’-এর রিপোর্ট বলছে, প্রথম দফার তুলনায় দ্বিতীয় দফায় নিরক্ষর এবং স্বল্পশিক্ষিত প্রার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

পরিসংখ্যানের লড়াই: প্রথম দফা বনাম দ্বিতীয় দফা

নিজেদের মনোনয়নপত্রে জমা দেওয়া হলফনামার তথ্য বলছে, দ্বিতীয় দফার লড়াইয়ে এমন অনেক মুখ রয়েছেন যাদের অক্ষরজ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। দেখে নিন সেই তুলনামূলক চিত্র:

বিবরণ দ্বিতীয় দফা (১৪২ আসন) প্রথম দফা (১৫২ আসন)
নিরক্ষর বা অক্ষরজ্ঞানহীন ১৬ জন ১৪ জন
শুধুমাত্র ‘লিটারেট’ (স্বল্পশিক্ষিত) ৩৯ জন ২৯ জন
পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি ৬৪৬ জন (৪৫%) ৭০৮ জন
স্নাতক বা তার ঊর্ধ্বে ৭২১ জন (৫০%) ৬৯৮ জন

অর্ধেক প্রার্থীই ডিগ্রিধারী, বাকিদের দৌড় কতদূর?

রিপোর্ট অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফার প্রার্থীদের মধ্যে শিক্ষাগত যোগ্যতার এক অদ্ভুত বৈচিত্র্য দেখা যাচ্ছে। একদিকে যেমন ৫০ শতাংশ প্রার্থী স্নাতক বা তার বেশি উচ্চশিক্ষিত, তেমনই অন্যদিকে প্রায় ৪৫ শতাংশ প্রার্থীর বিদ্যা কেবল পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ। এছাড়া ২০ জন প্রার্থী রয়েছেন যারা প্রথাগত পড়াশোনার বদলে কারিগরি বা ডিপ্লোমা ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

কেন এই তথ্য জানা জরুরি?

নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি প্রার্থীকে তাঁদের মনোনয়নের সাথে শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণ দাখিল করতে হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতাই শেষ কথা নয়, কিন্তু তিনি কতটা সচেতন বা প্রশাসনিক নথিপত্র বুঝতে কতটা সক্ষম— সেই সম্পর্কে ভোটারদের ধারণা দিতে এই তথ্য অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

প্রথম দফার তুলনায় দ্বিতীয় দফায় উচ্চশিক্ষিত প্রার্থীর সংখ্যা সামান্য বাড়লেও, নিরক্ষর প্রার্থীর হার বৃদ্ধি পাওয়ায় সচেতন মহলে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। ভোটের মাঠে এই ‘শিক্ষার দৌড়’ সাধারণ ভোটারদের সিদ্ধান্তে কোনও প্রভাব ফেলে কি না, তা জানা যাবে আগামী ৪ মে ফলপ্রকাশের দিন।