রক্তে ভিজেছিল পহেলগাম: এক বছর পর কেমন আছে কাশ্মীর? পর্যটকদের জন্য কি এখন নিরাপদ ভূস্বর্গ?

ঠিক এক বছর আগের কথা। ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল। হিমালয়ের কোলে শান্ত পহেলগাম কেঁপে উঠেছিল বন্দুকের গুলিতে। জঙ্গিদের নৃশংস হামলায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ২৬ জন পর্যটক। সেই এক ধাক্কায় কাশ্মীরের উদীয়মান পর্যটন শিল্প কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছিল। এক বছর পর, আবারও হোটেলের জানালায় আলো জ্বলছে, ডাল লেকের হাউসবোটগুলো সেজে উঠছে ঠিকই, কিন্তু পর্যটকদের সেই উপচে পড়া ভিড় আজও অমিল।
স্মৃতিতে সেই অভিশপ্ত বাইসারান
পহেলগামের সেই ছোট্ট পাহাড়ি তৃণভূমি বাইসারান, যেখানে পাইন বন থেকে বেরিয়ে এসে জঙ্গিরা নির্বিচারে গুলি চালিয়েছিল, সেটি আজও সাধারণের জন্য বন্ধ। এক সময় যেখানে তিল ধারণের জায়গা থাকত না, আজ সেখানে শুধুই নিস্তব্ধতা। স্থানীয় গেস্ট হাউস মালিক ইউনুস খান্ডে আক্ষেপ করে বলেন, “আগে বুকিং সামলাতে পারতাম না, আর এখন পর্যটক পাওয়ার জন্য পথ চেয়ে বসে থাকি।”
রাজনীতি ও সংঘাতের টানাপোড়েন
এই হামলার দায় প্রথমে ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (TRF) নিলেও পরে তারা পিছু হটে। তবে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, এটি লস্কর-ই-তৈবার একটি প্রক্সি সংগঠন। এই হামলার রেশ ধরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আকাশপথে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শুরু হয়, যাতে প্রাণ হারান প্রায় ৭০ জন। ড্রোন ও মিসাইল হামলায় সীমান্ত পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় কাশ্মীর থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন পর্যটকরা।
পরিসংখ্যানে ভয়ের ছায়া
২০২৪ সালে রেকর্ড ২.৩ কোটিরও বেশি পর্যটক কাশ্মীর ভ্রমণ করেছিলেন। কিন্তু ২০২৫-এর হামলার পর সরকার কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করেনি। ট্র্যাভেল এজেন্ট তানভির আহমেদের মতে, “পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হলেও ব্যবসা আগের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ কমে গেছে। তবে আশার কথা এই যে, মানুষ আবারও অল্প অল্প করে বুকিং শুরু করছেন।”
ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে ভূস্বর্গ
কাশ্মীরের পর্যটন ডিরেক্টর সৈয়দ কামার সাজ্জাদ স্বীকার করে নিয়েছেন যে, পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক হতে অনেকটা সময় লাগবে। উপত্যকায় মোতায়েন ৫ লক্ষ সেনার কড়া নজরদারিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু পর্যটকদের মনে যে ভীতি তৈরি হয়েছিল, তা কাটাতে সরকার এখন বিশেষ প্যাকেজ ও প্রচারের ওপর জোর দিচ্ছে।
কাশ্মীরের অর্থনীতি অনেকাংশেই পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল। পহেলগাম হামলা কেবল ২৬টি প্রাণ কেড়ে নেয়নি, কেড়ে নিয়েছিল হাজার হাজার মানুষের রুজি-রুটি। এখন দেখার, ২০২৬-এর এই পর্যটন মৌসুমে কাশ্মীর আবারও তার পুরনো রূপ ফিরে পায় কি না।