“বিরোধীরা নারীশক্তির ভ্রূণহত্যা করেছে!” জাতির উদ্দেশে ভাষণে কংগ্রেস-তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ মোদীর

লোকসভায় নারী সংরক্ষণ সংক্রান্ত ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিলটি ভেস্তে যাওয়ার পর শনিবার রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ভাষণে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলোকে আক্রমণ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী সাফ জানান, একটি সৎ প্রচেষ্টাকে সংসদীয় রাজনীতির প্যাঁচে ফেলে ‘হত্যা’ করেছে বিরোধীরা।

“এটি একটি ভ্রূণহত্যা”

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বিরোধীদের জোটকে নজিরবিহীনভাবে আক্রমণ করে বলেন:

  • “সরকারের এই বিল উত্থাপন ছিল দেশের নারীশক্তির জন্য একটি সৎ ও পবিত্র প্রচেষ্টা।”

  • “কিন্তু কংগ্রেস, টিএমসি (TMC), ডিএমকে (DMK) এবং সমাজবাদী পার্টির মতো দলগুলো সমগ্র জাতির সামনে এই স্বপ্নের ভ্রূণহত্যা করেছে।”

  • “এরা কেবল রাজনীতির অপরাধী নয়, এরা দেশের সংবিধান এবং নারীশক্তির কাছেও অপরাধী।”

কংগ্রেসকে সরাসরি নিশানায় মোদী

কংগ্রেসের অতীত ও বর্তমান অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কংগ্রেস দল আসলে নারী সংরক্ষণের বিষয়টিকে মনে-প্রাণে ঘৃণা করে। তারা চায় না মহিলারা ক্ষমতায় আসুক। তাই তারা জোটবদ্ধ হয়ে এই ঐতিহাসিক সুযোগটি নষ্ট করে দিল।”

কেন ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী?

শুক্রবার সংসদে ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিলটি প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন না পাওয়ায় বাতিল হয়ে যায়। এই বিলটি পাস হলে:

  • লোকসভা ও বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত হতো।

  • লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বেড়ে ৮৫০ হওয়ার পথ প্রশস্ত হতো।

  • ২০২৯-এর নির্বাচন থেকেই মহিলারা নীতিনির্ধারণে সরাসরি অংশ নিতে পারতেন।

আগামী দিনের লড়াই

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণের শেষে দেশবাসীকে এবং বিশেষ করে মহিলাদের আশ্বস্ত করে বলেন, বিলটি আজ পাস না হলেও বিজেপি ও এনডিএ পিছু হটবে না। তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, এই ঘটনার সাজা দেশের সাধারণ মানুষ ব্যালট বক্সের মাধ্যমেই বিরোধীদের দেবে।