হরমুজে ভারতীয় জাহাজে ঝাঁকে ঝাঁকে গুলি! ২০ লক্ষ ব্যারেল তেল নিয়ে মাঝসমুদ্রে রণক্ষেত্র, নেপথ্যে কারা?

বিশ্ব বাণিজ্যের লাইফলাইন বলে পরিচিত হরমুজ প্রণালীতে (Strait of Hormuz) ভারতীয় বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটল। শনিবার ভারতীয় পতাকাবাহী দুটি জাহাজকে লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে গুলি চালাল ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)। ২০ লক্ষ ব্যারেল তেল বোঝাই একটি সুপারট্যাঙ্কার-সহ মোট ৭টি জাহাজকে মাঝপথ থেকে ফিরে আসতে হয়েছে।

মাঝসমুদ্রে ঠিক কী ঘটেছিল?

শিপিং মনিটর ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী:

  • অতর্কিত গুলিবর্ষণ: কেশম ও লারাক দ্বীপের মাঝামাঝি এলাকায় আইআরজিসি-র দুটি গানবোট থেকে ভারতীয় জাহাজ লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়।

  • সুপারট্যাঙ্কার টার্গেট: ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলোর মধ্যে একটি ভারতীয় সুপারট্যাঙ্কার ছিল, যাতে ২০ লক্ষ ব্যারেল ইরাকি তেল মজুত ছিল। একটি কন্টেনার জাহাজও এই হামলায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে।

  • ভিএইচএফ বার্তা: রেডিও বার্তায় ইরানের তরফে জানানো হয়, মার্কিন সরকার প্রতিশ্রুতি পূরণ না করায় তারা ফের হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে। কোনো দেশের জাহাজকেই আর পার হতে দেওয়া হবে না।

ফিরে এল ভারতের সাতটি জাহাজ

শনিবার সকাল থেকে মোট ৮টি ভারতীয় বা ভারতমুখী জাহাজ হরমুজের দিকে এগোচ্ছিল। যার মধ্যে ‘দেশ গরিমা’ নামে একটি জাহাজ কোনোক্রমে প্রণালী পার হতে পারলেও, বাকি সাতটি জাহাজকে বন্দুকের মুখে ফিরে আসতে হয়। অডিও ইন্টারসেপ্টে শোনা গেছে, ইরানি বাহিনী জাহাজগুলোকে পশ্চিম দিকে ঘুরে যাওয়ার নির্দেশ দিচ্ছে।

দিল্লির কড়া পদক্ষেপ ও ইরানের পাল্টি

ঘটনার গুরুত্ব বুঝে নয়াদিল্লি তড়িঘড়ি পদক্ষেপ নিয়েছে: ১. রাষ্ট্রদূতকে তলব: দিল্লিতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূতের কাছে ভারত সরকার কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে। নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে ভারত যে কোনো আপস করবে না, তাও স্পষ্ট করা হয়েছে। ২. ডিজি শিপিং-এর নজরদারি: ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ শিপিং গোটা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। কোনো ভারতীয় নাবিক আহত হওয়ার খবর এখনও মেলেনি।

কেন হঠাৎ রণংদেহি ইরান?

ইরানের দাবি, তাদের বন্দর ও জাহাজের ওপর মার্কিন অবরোধের প্রতিবাদেই এই পদক্ষেপ। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যতদিন আমেরিকার এই অবরোধ বহাল থাকবে, ততদিন সেনাবাহিনীর কড়া তত্ত্বাবধানে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা হবে। অর্থাৎ, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের যে সীমিত অনুমতি আগে দেওয়া হয়েছিল, তা প্রত্যাহার করে নিল ইরান।