পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির স্বপ্ন শেষ? ইরানের ‘গোপন সম্পদ’ কেন কেড়ে নিতে মরিয়া ট্রাম্প? জানুন আসল কারণ

বিশ্ব রাজনীতিতে ফের বড়সড় ভূমিকম্প! মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক সাম্প্রতিক দাবিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। ট্রাম্পের দাবি, ইরান তাদের ভূগর্ভস্থ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা সমস্ত “পারমাণবিক ধূলিকণা” বা উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম শেষ পর্যন্ত আমেরিকার হাতে তুলে দিতে রাজি হয়েছে। গত বছরের বিমান হামলার পর এটাই হতে চলেছে ইরানের সবচেয়ে বড় ‘আত্মসমর্পণ’।

কী এই ‘পারমাণবিক ধূলিকণা’?

গত বছরের জুন মাসে ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক কেন্দ্রে বিধ্বংসী বিমান হামলা চালায় আমেরিকা ও ইজরায়েল। সেই হামলার ফলে ইসফাহান ও নাতাঞ্জ কেন্দ্রের ভূগর্ভস্থ ল্যাবরেটরিগুলো ধ্বংস হয়ে যায়। কিন্তু সেই ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে রয়েছে প্রায় ৪০০ কেজি উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিমাণ জ্বালানি দিয়ে খুব সহজেই একাধিক পারমাণবিক সমরাস্ত্র তৈরি করা সম্ভব। ট্রাম্প মূলত এই তেজস্ক্রিয় উপাদানগুলোকেই “পারমাণবিক ধূলিকণা” বলে অভিহিত করেছেন।

কেন ওখানেই হাত দিতে চান ট্রাম্প?

আমেরিকার মূল উদ্বেগ হলো, ইরান যদি গোপনে এই ইউরেনিয়াম উদ্ধার করে ফেলে, তবে তারা যেকোনো সময় পারমাণবিক বোমা বানিয়ে ফেলতে পারে। তাই ট্রাম্পের নতুন ‘টার্গেট’ হলো:

  • মাটির গভীরে থাকা ওই ইউরেনিয়াম পুরোপুরি সরিয়ে ফেলা।

  • ইরানকে নতুন করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার কোনো সুযোগ না দেওয়া।

  • তেহরানের পারমাণবিক সক্ষমতাকে স্থায়ীভাবে পঙ্গু করে দেওয়া।

ইরানের যুক্তি বনাম বিশেষজ্ঞদের সন্দেহ

ইরান বারবার দাবি করেছে যে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য। কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে অন্য কথা। ইরানের সচল পারমাণবিক কেন্দ্রগুলো দেশের মোট চাহিদার মাত্র ১ শতাংশ বিদ্যুৎ মেটাতে পারে। অন্যদিকে, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গ্যাস ও তেলের খনি থাকার পরেও কেন ইরান পারমাণবিক বিদ্যুতের পেছনে এত বিনিয়োগ করছে, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, আসল লক্ষ্য ছিল পরমাণু বোমা তৈরি করা।

কূটনৈতিক বিজয় না কি চালবাজি?

তেহরান বা মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান এখনো সরকারিভাবে এই সমঝোতার কথা স্বীকার করেনি। তবে ট্রাম্পের দাবি সত্য হলে এটি হবে ওয়াশিংটনের জন্য এক ঐতিহাসিক কূটনৈতিক বিজয়। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে— ইরান কি সত্যিই সবটুকু ইউরেনিয়াম দিয়ে দেবে? না কি গোপনে ফের অস্ত্র তৈরির প্রস্তুতি নেবে?