পুরুলিয়ায় তৃণমূলের বড়সড় ধস! মোদীর সভার আগেই বিজেপিতে হেভিওয়েটদের মেলা

লোকসভা ভোটের মুখে বড়সড় ধাক্কা খেল পুরুলিয়ার শাসক শিবির। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আসন্ন জনসভার ঠিক আগেই তৃণমূল কংগ্রেসে বড়সড় ভাঙন ধরিয়ে দিল বিজেপি। জেলা পরিষদের প্রাক্তন কর্মাধ্যক্ষ থেকে শুরু করে ব্লক সভাপতি— একঝাঁক হেভিওয়েট নেতা শনিবার গেরুয়া শিবিরে নাম লেখালেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, মোদীর সভার আগে এই দলবদল পুরুলিয়ার নির্বাচনী সমীকরণ ওলটপালট করে দিতে পারে।
বিজেপি শিবিরে ‘যোগদান মেলা’
শনিবার পুরুলিয়ার বিজেপি সাংসদ কার্যালয়ে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন পুরুলিয়া লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থী তথা সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো এবং জেলা সভাপতি শঙ্কর মাহাতো। তাঁদের হাত থেকেই বিজেপির পতাকা তুলে নেন তৃণমূলের একঝাঁক নেতা।
বিজেপিতে যোগ দিলেন যাঁরা:
-
হলধর মাহাতো: জেলা পরিষদের প্রাক্তন কর্মাধ্যক্ষ।
-
অমর মাহাতো: রঘুনাথপুর ব্লকের প্রাক্তন তৃণমূল সভাপতি।
-
নৃপতি রাজোয়াড়: তৃণমূলের বিদ্যুৎ পর্ষদ ইউনিয়নের প্রাক্তন সহ-সম্পাদক।
-
রাজেশ মাহাতো: তৃণমূলের সক্রিয় নেতা।
“দল নয়, কোম্পানি!”— বিস্ফোরক হলধর
দলবদলের পরেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন হলধর মাহাতো। তিনি সাফ জানান, “তৃণমূল কংগ্রেস এখন আর রাজনৈতিক দল নেই, এটি একটি কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে।” তাঁর দাবি, শাসকদলের অন্দরে পুরনো কর্মীদের সম্মান নেই এবং সেখানে থেকে সাধারণ মানুষের কাজ করা সম্ভব নয়। একই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অমর মাহাতো এবং নৃপতি রাজোয়াড়ও।
চাপে কি তৃণমূল?
পুরুলিয়া জেলার রাজনীতিতে মাহাতো সম্প্রদায়ের ভোট অত্যন্ত নির্ণায়ক। হলধর ও অমর মাহাতোর মতো জনপ্রিয় নেতাদের দলবদল গ্রামীণ ভোটব্যাঙ্কে তৃণমূলকে বড় ধাক্কা দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোর দাবি, “তৃণমূলের অন্দরে এখন দমবন্ধ করা পরিবেশ। সৎ মানুষ সেখানে থাকতে পারছেন না। প্রধানমন্ত্রীর সভার আগেই এই ভাঙন প্রমাণ করছে মানুষ এখন উন্নয়নের পক্ষে।”
মোদী ম্যাজিকের আগে মনস্তাত্ত্বিক জয়?
প্রধানমন্ত্রীর সভার আগে এই যোগদান বিজেপির জন্য বড় মনস্তাত্ত্বিক জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই দলবদলের ফলে রঘুনাথপুর এবং জেলা পরিষদ স্তরে বিজেপি সাংগঠনিকভাবে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠল। অন্যদিকে, বিক্ষুব্ধ নেতাদের সামলাতে তৃণমূলের ওপর চাপ আরও বাড়ল বলেই মনে করা হচ্ছে।