রেশন মিলবে না ওনার কথা শুনে! রাত ৮.৩০-এর ভাষণ নিয়ে মোদীকে বেনজির আক্রমণ তৃণমূল সুপ্রিমোর

শনিবার রাত সাড়ে ৮টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু সেই ভাষণ শুরুর আগেই তাকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার ভাঙড়ে তৃণমূল প্রার্থী সওকত মোল্লার সমর্থনে জনসভা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বিঁধে মমতা বলেন, “ওনার ভাষণ শোনার জন্য কেউ বসে নেই। ওনার ভাষণ মানে মিথ্যে আর জুমলা।”

‘ভাষণে পেট ভরবে না’

প্রধানমন্ত্রী যখনই রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন, তখনই বড় কোনো পরিবর্তনের আঁচ পায় দেশ। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, মোদীর এই ভাষণ সাধারণ মানুষের কোনো কাজে আসে না। তিনি কটাক্ষ করে বলেন:

“শুনছি আজ রাতে আবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। ওনার ভাষণ শুনে মানুষের রেশন মিলবে না। ওনার ভাষণ মানে মিথ্যে কথা আর মিথ্যে ফুলঝুরি।”

ভাঙড়বাসীর জন্য প্রতিশ্রুতির বন্যা

ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সওকত মোল্লার হয়ে এদিন সওয়াল করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি ভাঙড়বাসীর মন জয়ে একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতিও দেন:

  • থানা ও হাসপাতাল: সওকতের অনুরোধেই ভাঙড়ে কলকাতা পুলিশের অধীনে ৮টি থানা করা হয়েছে। এবার সেখানে একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল তৈরিরও আশ্বাস দেন তিনি।

  • জমির মিউটেশন: গরিব মানুষের জমি রক্ষা করতে মিউটেশন বন্ধ করা হয়েছিল বলে জানান মমতা। সওকত জিতলে সেই সমস্যা সমাধানের ভারও তাঁর কাঁধে থাকবে।

  • নির্দলদের আক্রমণ: ভাঙড়ে নির্দল প্রার্থীদের একটিও ভোট না দেওয়ার আর্জি জানিয়ে বিজেপি ও ‘গদ্দার’দের রাজনৈতিকভাবে ‘কবর’ দেওয়ার ডাক দেন তিনি।

বিজেপির বিরুদ্ধে ‘মাছ-মাংস’ কার্ড

নির্বাচনী প্রচারের শুরু থেকেই বিজেপিকে বাঙালির খাদ্যাভ্যাসে হস্তক্ষেপ করার অভিযোগে বিঁধে আসছেন মমতা। এদিনও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, বিজেপি বাংলায় এলে বাঙালির মাছ-মাংস খাওয়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এছাড়া কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ‘স্লো-ভোটিং’ করানোর অভিযোগও তোলেন তিনি। মা-বোনেদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, কেউ ভোট দিতে বাধা দিলে যেন ঝাঁটা হাতে প্রতিবাদ করা হয়।

মোদীর ভাষণ নিয়ে মমতার এই ‘জুমলা’ কটাক্ষ ভোটের বাজারে নতুন মাত্রা যোগ করল। এখন দেখার, রাত সাড়ে ৮টায় প্রধানমন্ত্রী কী বার্তা দেন এবং তার পাল্টা তৃণমূল কী কৌশল নেয়।