“ভোট কাটাকাটিতে বিজেপি জিতলে দায় কার?” মুর্শিদাবাদে দাঁড়িয়ে কংগ্রেস-মিমকে ‘বিজেপির এজেন্ট’ দাগলেন অভিষেক!

বৈশাখের তপ্ত রোদ উপেক্ষা করেই মুর্শিদাবাদের ফরাক্কায় উপচে পড়া ভিড়। আল-আমান শিক্ষা মিশন গ্রাউন্ড থেকে ফরাক্কার জিগরি মোড় পর্যন্ত রোড শো করে জনসংযোগ সারলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকেই জেলার রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে ভোটারদের কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি।
⚠️ ভোট কাটাকাটি ও বিজেপির ‘এজেন্ট’ তত্ত্ব
মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অভিষেক দাবি করেন, এখানে বিজেপির হয়ে তিনটি ‘এজেন্সি’ কাজ করছে। তাঁর সরাসরি আক্রমণ:
-
এক: নির্বাচন কমিশন (অভিযোগ, সংখ্যালঘুদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে)।
-
দুই: অধীর চৌধুরীর নেতৃত্বে কংগ্রেস।
-
তিন: মিম (AIMIM)-সহ অন্যান্য ছোট দল।
জনতাকে সতর্ক করে অভিষেক বলেন, “যদি ভোট কাটাকাটিতে বিজেপি জিতে যায়, তবে তার দায় কে নেবে? যারা ভোট ভাগ করতে চাইছে, তারা সবাই বিজেপির এজেন্ট। এদের ভোট দেওয়া মানে সরাসরি বিজেপিকে শক্তিশালী করা।”
🔄 “বিজেপিকে টুকরো টুকরো করে ভাঙছে তৃণমূল”
দলবদল নিয়ে অভিষেক এদিন বিরোধীদের রীতিমতো চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন। তিনি দাবি করেন, গত ৫ বছরে তৃণমূলের কোনো বিধায়ক বিজেপিতে যাননি, বরং উল্টোটাই হয়েছে। তাঁর কথায়, “বিজেপি অন্য দলকে ভাঙছে ঠিকই, কিন্তু বিজেপিকে টুকরো টুকরো করে ভাঙার ক্ষমতা রাখে একমাত্র তৃণমূল। আমরা ওদের ভাষা বুঝি এবং সেই ভাষাতেই জবাব দিতে জানি।”
🚫 ডিলিমিটেশন বিল ও লোকসভার লড়াই
শুক্রবার লোকসভায় সংবিধান সংশোধনী বিল পাস না হওয়াকে তৃণমূলের নৈতিক জয় হিসেবে তুলে ধরেন অভিষেক। তিনি বলেন, “ওটা কোনো মহিলা বিল ছিল না, ওটা ছিল ডিলিমিটেশন বা দেশভাগের বিল। বিজেপি গায়ের জোরে সংবিধান পাল্টাতে চেয়েছিল, কিন্তু তৃণমূল দেখিয়ে দিয়েছে সেটা সম্ভব নয়। কাল লোকসভায় ওদের দম্ভ মুখ থুবড়ে পড়েছে।”
🗳️ শেষ হাসি কার?
ভোটের মাত্র ৫ দিন আগে মুর্শিদাবাদের মাটিতে দাঁড়িয়ে অভিষেকের এই ‘ভোট কাটাকাটি’র তত্ত্ব যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে সংখ্যালঘু ভোট যাতে কংগ্রেস বা মিমের দিকে না যায়, সেই লক্ষ্যেই এই কড়া বার্তা।