বিকাশ ভবন থেকে নবান্নে পৌঁছাল ‘মাস্টার ফাইল’! চলতি সপ্তাহেই কি মিটবে শিক্ষকদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ডিএ ভাগ্য?

পশ্চিমবঙ্গের সরকারি স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে। শিক্ষা দফতরের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) সংক্রান্ত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফাইল অবশেষে নবান্নে পৌঁছেছে। নবান্ন ও বিকাশ ভবন সূত্রে খবর, এই ফাইলটি অনুমোদন পেলেই রাজ্যের কয়েক লক্ষ অধ্যাপক, শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের ডিএ পাওয়ার প্রক্রিয়া এক ধাক্কায় অনেকটা এগিয়ে যাবে।

📂 ফাইলে কী আছে?

বিকাশ ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, স্কুল শিক্ষা দফতর এবং উচ্চ শিক্ষা দফতর আলাদাভাবে অধ্যাপক, আধিকারিক এবং শিক্ষাকর্মীদের বকেয়া ডিএ-র নিখুঁত হিসেব কষেছে। এমনকি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীদের প্রাপ্য সংক্রান্ত তথ্যও এই ফাইলে যুক্ত করা হয়েছে। নবান্নের অর্থ দফতর এই হিসেব খতিয়ে দেখে নীতিগত সিদ্ধান্তের সিলমোহর দিলেই টাকা ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

🗓️ মুখ্যমন্ত্রীর বড় ঘোষণা ও সময়সীমা

সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমাজমাধ্যমে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিয়েছিলেন। তিনি স্পষ্ট জানান:

  • শুধু রাজ্য সরকারি কর্মচারী নন, শিক্ষক-শিক্ষিকা, পঞ্চায়েত, পুরসভা এবং সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও সমানভাবে ডিএ পাবেন।

  • রোপা-২০০৯ (ROPA-2009) অনুসারে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ ২০২৬ সালের মার্চ মাস থেকে দেওয়া শুরু হবে।

⚡ দ্রুত বদলাচ্ছে পরিস্থিতি

যদিও আগে ২০২৬-এর কথা বলা হয়েছিল, কিন্তু গত কয়েকদিনে অর্থ দফতরের সঙ্গে শিক্ষা দফতরের একের পর এক বৈঠকের পর পরিস্থিতি ইতিবাচক দিকে মোড় নিয়েছে। অর্থ দফতরে ফাইল পৌঁছানোর অর্থ হলো—সরকার এখন পর্যায়ক্রমে বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত। প্রশাসনিক মহলের মতে, প্রশাসনিক জট কেটে যাওয়ায় চলতি সপ্তাহেই বড় কোনো স্বস্তির খবর আসতে পারে।

রাজ্যের শিক্ষা জগতের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এই বকেয়া ডিএ। নবান্নে এই ফাইল পৌঁছানোকে তাঁদের নৈতিক জয়ের প্রথম ধাপ হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ।