“মা কালীকেও কি ভুলে গেলেন?”-মোদীর খোঁচার পালটা জবাব ডিএমকে সাংসদ কানিমোঝির

কালো রঙ কি শুধুই অশুভ শক্তির নজর এড়ানোর হাতিয়ার, নাকি তা অপরাজেয় নারীশক্তির প্রতীক? শুক্রবার সংসদের বিশেষ অধিবেশনে এই প্রশ্ন তুলেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘কালা টিকা’ খোঁচার পালটা দিলেন ডিএমকে (DMK) সাংসদ কানিমোঝি। প্রধানমন্ত্রীর কটাক্ষের জবাবে লোকসভায় সরাসরি ‘মা কালী’র রুদ্ররূপের প্রসঙ্গ টেনে আনলেন তিনি।
মা কালী বনাম ‘কালা টিকা’ বৃহস্পতিবার ডিলিমিটেশন বিলের বিরোধিতায় কালো পোশাক পরে সংসদে এসেছিলেন ডিএমকে সাংসদরা। তাঁদের দাবি ছিল, এই বিল দক্ষিণ ভারতের রাজনৈতিক গুরুত্ব কমিয়ে দেবে। বিরোধীদের এই কালো পোশাক দেখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কটাক্ষ করে বলেছিলেন, বিরোধীরা আসলে সরকারের শুভ কাজে ‘কালা টিকা’ পরিয়ে দিচ্ছেন যাতে অশুভ নজর না লাগে।
শুক্রবার নিজে কালো শাড়ি পরে অধিবেশনে যোগ দিয়ে কানিমোঝি এর মোক্ষম জবাব দেন। তিনি বলেন:
“আমি অবাক হয়ে যাচ্ছি, যাঁরা নিজেদের হিন্দুত্বের রক্ষক বলে দাবি করেন, তাঁরা মা কালীকে ভুলে গেলেন? সেই মহাশক্তি, যিনি কালো বর্ণ ধারণ করেন এবং মানুষের অহঙ্কার ও অজ্ঞানতার বিনাশ করেন।”
পেরিয়ারের আদর্শ ও দ্রাবিড় স্বাভিমান কানিমোঝি এদিন সাফ জানান, কালো রঙ তাঁদের কাছে কেবল প্রতিবাদের ভাষা নয়, এটি দ্রাবিড় আন্দোলনের অগ্রদূত ই. ভি. রামস্বামী পেরিয়ারের আদর্শ ও আত্মসম্মানের প্রতীক। তিনি হুঙ্কার দিয়ে বলেন, “এই রঙ আমাদের আত্মসম্মান শেখায়। আমরা মাথা নত করব না এবং অধিকারের লড়াই শেষ পর্যন্ত চালিয়ে যাব।”
দক্ষিণের বঞ্চনা ও সংশয় রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস হলে তামিলনাড়ু বা কেরলের মতো রাজ্যগুলির তুলনায় হিন্দিভাষী রাজ্যগুলির শক্তি বহুগুণ বেড়ে যাবে। এদিন কানিমোঝি স্পষ্ট করে দেন, উপযুক্ত আলোচনা ছাড়া ডিলিমিটেশন বিলের বর্তমান রূপটি ডিএমকে কোনওভাবেই সমর্থন করবে না। তাঁর দাবি, এই ধরনের বড় সাংবিধানিক পরিবর্তনের আগে অন্তত তিন মাস বিলটি জনসমক্ষে রাখা উচিত ছিল।
প্রধানমন্ত্রী সব রাজ্যের আসন সমানভাবে বৃদ্ধির আশ্বাস দিলেও কানিমোঝির বক্তব্যে স্পষ্ট যে, দক্ষিণ ভারত এখনই কেন্দ্রের সেই আশ্বাসে ভরসা করতে পারছে না। সংসদের এই ‘রঙিন’ বিতর্ক এখন জাতীয় রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।