সংসদে দাঁড়িয়ে ‘ভবিষ্যদ্বাণী’ শাহের! বিরোধীদের অস্তিত্ব সংকটে ফেলার হুমকি, উত্তাল দিল্লি

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ডামাডোলের মাঝেই আজ লোকসভা সাক্ষী থাকল এক নজিরবিহীন বাদানুবাদের। আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন বিল নিয়ে বিতর্কের জেরে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র দিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মেজাজ হারিয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, বিরোধীদের চুল পেকে সাদা হয়ে যাবে, কিন্তু তাদের কপালে থাকা ‘বিরোধী’ তকমা আর ঘুচবে না।

কী কারণে এই সংঘাত? শুক্রবার লোকসভায় যখন ডিলিমিটেশন বিল এবং মহিলা সংরক্ষণ নিয়ে আলোচনা চলছিল, তখন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং তৃণমূল সাংসদরা সরকারের বিরুদ্ধে ‘অগণতান্ত্রিক’ আচরণের অভিযোগ তোলেন। বিরোধীদের হইহট্টগোলের মাঝেই মাইক্রোফোন হাতে নেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, “আপনারা যতই চিৎকার করুন, দেশের মানুষের মেজাজ আপনারা বোঝেন না। আমি লিখে দিতে পারি, আপনাদের চুল সাদা হয়ে যাবে, কিন্তু বিরোধী নাম আর ঘুচবে না। আগামী ৫০ বছর এই দেশ বিজেপিই চালাবে।”

রাহুল গান্ধীকে পাল্টা তোপ: রাহুল গান্ধীর ‘ব্রিটিশ নাগরিকত্ব’ সংক্রান্ত ইস্যু নিয়ে হাইকোর্টের নির্দেশের রেশ টেনে শাহ আরও বলেন, “যাঁরা নিজেদের নাগরিকত্ব নিয়ে সদুত্তর দিতে পারেন না, তাঁরা গণতন্ত্রের পাঠ দিচ্ছেন! দেশের মানুষ আপনাদের চিনে গিয়েছে। ডিলিমিটেশন বিল নিয়ে আপনারা ভয় পাচ্ছেন কারণ আপনারা জানেন যে মানুষের সমর্থন আপনাদের সঙ্গে নেই।”

বিরোধীদের কড়া জবাব: অমিত শাহের এই মন্তব্যের পরই উত্তাল হয়ে ওঠে সংসদ। তৃণমূল এবং কংগ্রেস সাংসদরা স্পিকারের আসনের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। বিরোধীদের দাবি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হয়ে এভাবে ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্য করতে পারেন না। তৃণমূল সাংসদদের পক্ষ থেকে বলা হয়, “দিল্লি থেকে হুঙ্কার ছেড়ে লাভ নেই, ২০২৬-এর নির্বাচনে বাংলার মানুষ এর যোগ্য জবাব দেবে।”

রাজনৈতিক গুরুত্ব: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অমিত শাহের এই ‘ভবিষ্যদ্বাণী’ আসলে বিরোধী শিবিরের মনোবল ভাঙার একটি কৌশল। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের প্রথম দফার ভোটের আগে বিজেপি কর্মীদের চাঙ্গা করতে এবং মোদী সরকারের ‘অজেয়’ ভাবমূর্তি বজায় রাখতেই এই কড়া অবস্থান নিয়েছেন শাহ।

সংসদ কক্ষের এই লড়াই এখন সরাসরি ময়দানে পৌঁছাল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।