“ভারতের মাটিতে বাবর চলবে না!” হুমায়ুন কবিরকে চরম হুঁশিয়ারি হিমন্ত বিশ্ব শর্মার

বাংলার নির্বাচনী ময়দানে এবার সরাসরি ‘বাবর’ বনাম ‘ভারত’ লড়াই উসকে দিলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তৃণমূলের বিতর্কিত নেতা হুমায়ুন কবিরের বাবরি মসজিদ পুনর্নির্মাণের ঘোষণার পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে রীতিমতো অগ্নিশর্মা হয়ে উঠলেন গেরুয়া শিবিরের এই দাপুটে নেতা। কোচবিহারের জনসভা থেকে তাঁর সপাট প্রশ্ন— “বাবরি মসজিদ কি তোমার বাপের জমি?”
হিমন্তর ‘বাপের জমি’ কটাক্ষ
সম্প্রতি তৃণমূল নেতা হুমায়ুন কবির ঘোষণা করেছিলেন যে তাঁরা আবার বাবরি মসজিদ নির্মাণ করবেন। এই মন্তব্যকে হাতিয়ার করেই হিমন্ত বিশ্ব শর্মা তোপ দেগে বলেন:
“বাবরের মসজিদ বাবরের দেশে যেতে পারে, ভারতে নয়। উত্তরপ্রদেশ বা অসমে কেউ এমন কথা বলার সাহস পাবে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশ্রয় আছে বলেই বাংলায় বসে এসব বলা সম্ভব হচ্ছে।”
হিমন্ত আরও যোগ করেন যে, কেউ বলবে বাবরের মসজিদ বানাব, কেউ বলবে শাহজাহানের— ভারতের বাকি অংশে এসব ছেলেখেলা চলে না। বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই ধরনের ‘উপাদান’দের যোগ্য শিক্ষা দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
অমিত শাহের একই সুর
হিমন্তর সুরেই সুর মিলিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনিও কড়া ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, “কোনো মানুষের সাধ্য নেই যে ভারতে ফের বাবরি মসজিদ বানাবে।” শাহ ও হিমন্ত দুজনেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং হুমায়ুন কবিরকে একই সারিতে রেখে আক্রমণ শানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণের মাধ্যমে দেশ এক নতুন যুগে প্রবেশ করেছে, সেখানে পুরনো ক্ষত খুঁচিয়ে তোলা বরদাস্ত করা হবে না।
তৃণমূলের পাল্টা দাবি ও বিতর্ক
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস ও বিরোধী শিবির হিমন্তের এই বক্তব্যকে ‘সাম্প্রদায়িক উস্কানি’ হিসেবে দেখছে। তাঁদের মতে, বিজেপির নেতারা ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করছেন। এদিকে হুমায়ুন কবিরকে নিয়ে ধন্দ কাটছে না। তাঁর ভাইরাল হওয়া ভিডিওগুলো নিয়ে কেউ বলছেন তিনি বিজেপির সঙ্গে তলে তলে যোগাযোগ রাখছেন, আবার কারোর দাবি ওই ভিডিওগুলো এআই (AI) দিয়ে তৈরি।
ভোটের উত্তাপ তুঙ্গে
নির্বাচনের আগে ‘বাবরি মসজিদ’ ইস্যু নতুন করে ফিরে আসায় পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও স্পষ্ট হচ্ছে। একদিকে রাম মন্দিরের দোহাই দিয়ে সাংস্কৃতিক জাগরণের কথা বলছে বিজেপি, অন্যদিকে ধর্মীয় আবেগকে হাতিয়ার করে ভোটব্যাঙ্ক টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে শাসকদল। শেষ পর্যন্ত বাংলার মানুষ কার পক্ষে রায় দেবেন, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।