ডাক্তারদের জন্য বিশাল সুখবর! হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়ে কমল ‘সার্ভিস বন্ড’-এর মেয়াদ!

চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষা এবং সরকারি চাকরির বাধ্যবাধকতা নিয়ে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল উত্তরাখণ্ড হাইকোর্ট। এমবিবিএস-এর পর যারা স্নাতকোত্তর (PG) পড়তে যান, তাঁদের জন্য বাধ্যতামূলক ‘সার্ভিস বন্ড’-এর সময়সীমা নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতা এবার দূর হলো। প্রধান বিচারপতি মনোজ কুমার গুপ্ত এবং বিচারপতি সুভাষ উপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেওয়ার আগে যদি কোনো ডাক্তার পাহাড়ি বা প্রত্যন্ত এলাকায় চাকরি করে থাকেন, তবে সেই সময়কাল তাঁর মোট বন্ড পিরিয়ডের মধ্যে গণনা করা হবে।
কী ছিল এই মামলা?
ডঃ মেহুল সিং গুঞ্জিয়াল সহ একদল চিকিৎসক আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তাঁদের দাবি ছিল, ২০০৮ সালের সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পিজি-র পর যে ৩ বছরের বাধ্যতামূলক চাকরি করার কথা বলা হয়েছে, তার মধ্যে এমবিবিএস-এর পর করা চাকরির অভিজ্ঞতাকেও ধরা হোক। এর আগে একক বেঞ্চ ডাক্তারদের পক্ষে রায় দিলেও রাজ্য সরকার তার বিরুদ্ধে আপিল করেছিল।
আদালতের ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণ
শুনানি চলাকালীন আদালত স্পষ্ট করে দেয়:
-
মেয়াদ গণনা: যদি কোনো ডাক্তার এমবিবিএস-এর পর এক বছর প্রত্যন্ত এলাকায় চাকরি করে থাকেন, তবে পিজি শেষ করার পর তাঁকে আর পুরো ৩ বছর নয়, মাত্র ২ বছর চাকরি করতে হবে। অর্থাৎ, পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতার পূর্ণ সুবিধা মিলবে।
-
বন্ডের টাকা: সরকার ১৫ লক্ষ টাকার বন্ড আদায়ের যে অধিকার দাবি করেছিল, আদালত তা বজায় রেখেছে। যদি কোনো চিকিৎসক নির্ধারিত সময় পরিষেবা দিতে ব্যর্থ হন, তবে সরকার সেই টাকা আদায় করতে পারবে।
যাঁদের জন্য এই রায় স্বস্তির
এই রায়ের ফলে সেই সমস্ত চিকিৎসকরা উপকৃত হবেন যারা উচ্চশিক্ষা শেষ করার পর সরকারি বন্ড এবং পাহাড়ি অঞ্চলে চাকরির দ্বৈত চাপে পিষ্ট হচ্ছিলেন। বিশেষ করে যারা বেসরকারি মেডিকেল কলেজ থেকে পিজি করেছেন কিন্তু বন্ডের অধীনে ছিলেন, তাঁদের জন্য এটি বিশাল স্বস্তি।
রাজ্য সরকারের উদ্বেগ ও আদালতের সমাধান
রাজ্য সরকার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল যে, এই ধরনের ছাড় দিলে বন্ডের টাকা আদায়ে সমস্যা হতে পারে। তবে আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, শর্ত লঙ্ঘন হলে সরকার আইনি ব্যবস্থা নিতেই পারবে। কিন্তু চিকিৎসকদের ন্যায্য কাজের সময়সীমা কমিয়ে তাঁদের উচ্চশিক্ষায় উৎসাহ দেওয়া প্রয়োজন।