বিহারে সম্রাট-রাজ! একাই ২৯টি দপ্তরের দায়িত্ব নিলেন মুখ্যমন্ত্রী, নজিরবিহীন ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ?

বিহারের রাজনীতিতে এখন ‘সম্রাট’ যুগ। নতুন সরকার গঠনের পর দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টনে বড় চমক দিলেন মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী। নিজের হাতে ২৯টি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর রেখে এক শক্তিশালী বার্তা দিলেন তিনি। প্রশাসন থেকে শুরু করে আইন-শৃঙ্খলা—সবকিছুর রাশ এখন সরাসরি তাঁর হাতে।
একাই ২৯ দপ্তরের অধিপতি মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী
মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী শুধু সরকার প্রধান হিসেবেই নয়, প্রশাসনে নিজের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে ২৯টি বিভাগ নিজের অধীনে রেখেছেন। এর মধ্যে রয়েছে:
-
গৃহ ও সাধারণ প্রশাসন: রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর সরাসরি নজরদারি।
-
স্বাস্থ্য ও কৃষি: সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় দুই প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার।
-
সড়ক নির্মাণ: পরিকাঠামো উন্নয়নে সরাসরি হস্তক্ষেপ।
এই বিশাল সংখ্যক দপ্তরের দায়িত্ব নেওয়া এটাই প্রমাণ করে যে, রাজ্যে সুশাসন ফেরাতে কোনো আপস করতে রাজি নন নতুন মুখ্যমন্ত্রী।
বিজয় চৌধুরী: গ্রাম ও শিক্ষার কাণ্ডারি
ডেপুটি সিএম বিজয় কুমার চৌধুরীকে দেওয়া হয়েছে ১০টি দপ্তরের দায়িত্ব। তাঁর হাতে মূলত মানুষের সরাসরি কল্যাণমূলক কাজের ভার দেওয়া হয়েছে।
-
শিক্ষা: রাজ্যের ভেঙে পড়া শিক্ষা ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
-
গ্রামীণ বিকাশ ও জল সম্পদ: গ্রাম বাংলার উন্নয়ন এবং সেচ ব্যবস্থার উন্নতির ভার রয়েছে তাঁর কাঁধে।
বিজেন্দ্র যাদব: কোষাগার ও বিদ্যুতের রক্ষক
অন্যতম অভিজ্ঞ নেতা ও ডেপুটি সিএম বিজেন্দ্র প্রসাদ যাদব পেয়েছেন ৮টি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়। বিহারের অর্থনীতির মূল চাবিকাঠি এখন তাঁর পকেটে।
-
অর্থ ও জ্বালানি: রাজ্যের রাজস্ব বাড়ানো এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা তাঁর বড় চ্যালেঞ্জ।
-
খাদ্য ও উপভোক্তা সুরক্ষা: গরিব মানুষের রেশন ও সামাজিক কল্যাণ প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন করবেন তিনি।
নতুন বিহারের রোডম্যাপ: ক্ষমতার ভারসাম্য
বিভাগের এই বণ্টনে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তারুণ্যের সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী যেখানে নীতি নির্ধারণ এবং নিরাপত্তা নিজের হাতে রেখেছেন, সেখানে দুই উপ-মুখ্যমন্ত্রীকে দেওয়া হয়েছে জনসেবার বুনিয়াদি দায়িত্বগুলো। এই সুসংহত বণ্টন বিহারের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং পরিকাঠামো নির্মাণে নতুন গতি আনবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।