স্কুলে স্কুল পালানো ছাত্রদের ‘প্রহসন’! সরকারি অনুদান হাতাতে নাসিকের স্কুলগুলিতে প্রাক্তনীদের ভিড়।

নাসিক জেলার ১,১৫২টি স্কুলে ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যাগত শক্তি প্রদর্শনের নামে এক চরম অরাজকতার ছবি সামনে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও পুষ্টি প্রকল্পের টাকা পকেটস্থ করতে স্কুল কর্তৃপক্ষ এক অভিনব জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছে। পরিদর্শনের দিন ক্লাসরুম ভরতি দেখাতে স্কুল ছেড়ে চলে যাওয়া প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের ধরে এনে বর্তমান পড়ুয়াদের মাঝে বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল। শিক্ষা দপ্তরের প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, নাসিকের সরকারি, সাহায্যপ্রাপ্ত ও বেসরকারি স্কুল মিলিয়ে মোট ৫,৫৫৭ জন পড়ুয়ার তথ্য সশরীরে যাচাই করা হবে।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের চোখে ধুলো দিতে রীতিমতো আটঘাট বেঁধে নেমেছিল স্কুলগুলো। পঞ্চায়েত সমিতির সুপারভাইজার ও সম্প্রসারণ কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত পরিদর্শন দলগুলি যখন স্কুলে পৌঁছায়, তখন তাঁরা কেবল মাথা গুণেই ফিরে যান। পড়ুয়াদের আগে থেকেই সতর্ক করে দেওয়ায় কর্মকর্তারা প্রাথমিক অবস্থায় কোনো সন্দেহ করেননি। এমনকি স্টুডেন্ট পোর্টালে অধ্যক্ষের লগইন ব্যবহার করে অনেককে উপস্থিত দেখানো হলেও, তাঁদের প্রকৃত পরিচয় বা নথি যাচাই করার কোনো ব্যবস্থাই রাখা হয়নি।

শিক্ষা দপ্তর থেকে ক্লাসরুমের ছবি পোর্টালে আপলোড করা বাধ্যতামূলক করা হলেও, ‘প্রযুক্তিগত ত্রুটি’র অজুহাত দেখিয়ে পার পেয়ে যায় স্কুল কর্তৃপক্ষ। শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের একাংশের যোগসাজশেই এই দুর্নীতি সম্ভব হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। আজ থেকে তদন্তের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয়েছে, যা চলবে ২২শে এপ্রিল পর্যন্ত। এই দফায় পরিচয়পত্র ও বায়োমেট্রিক তথ্যের মাধ্যমে কড়াকড়ি করা হবে কি না, এখন সেটাই দেখার।