নয়ডায় রণক্ষেত্র! বেতন বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভ ঘিরে অগ্নিসংযোগ, আরজেডি মুখপাত্রদের বিরুদ্ধে পুলিশের বড় অ্যাকশন

উত্তরপ্রদেশের নয়ডায় বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ। ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩০০-এর বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। তবে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই পুলিশের নিশানায় এখন রাজনীতিকরা। গুজব ছড়ানোর অভিযোগে আরজেডি-র (RJD) দুই জাতীয় মুখপাত্রের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে নয়ডা পুলিশ।

গুজব ছড়ানোর অভিযোগে আরজেডি নেত্রীদের ওপর খাঁড়া
নয়ডা পুলিশের দাবি, আরজেডি মুখপাত্র প্রিয়াঙ্কা ভারতী এবং কাঞ্চনা যাদব সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বিভ্রান্তিকর ভিডিও শেয়ার করেছেন। অভিযোগ, ওই ভিডিওটি নয়ডার বলে দাবি করা হলেও তা ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা। পুলিশের ভাবমূর্তি নষ্ট করা এবং জনরোষ উস্কে দিয়ে শান্তিভঙ্গের অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধি এবং আইটি আইনের একাধিক ধারায় (৩৫৩(১)(খ), ৬৬ এবং ৬৬ডি) মামলা রুজু করা হয়েছে।

পুলিশের তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, প্রায় ২৫টি বট হ্যান্ডেল এবং ৭টি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে সুপরিকল্পিতভাবে এই অপতথ্য ছড়ানো হয়েছিল।

রণক্ষেত্র নয়ডা: কী ঘটেছিল সোমবার?
সোমবার সকাল থেকেই বেতন বৃদ্ধির দাবিতে রাস্তায় নামেন হাজার হাজার শ্রমিক। পুলিশ তাঁদের আটকানোর চেষ্টা করলে শুরু হয় দফায় দফায় সংঘর্ষ। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। উত্তেজিত জনতা পুলিশের গাড়িতে পাথর ছোড়ে এবং বেশ কয়েকটি যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয়। শিল্পাঞ্চল জুড়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়।

প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ
সহিংসতা রুখতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনীসহ পিএসি (PAC) ও আরএএফ (RAF)।

গ্রেফতার ও আটক: এখন পর্যন্ত ৩০০ জনকে আটক করা হয়েছে এবং ৭টি পৃথক এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটি: পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কড়া নজরদারি: সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো ধরণের গুজব যাতে না ছড়ায়, সেদিকে সাইবার সেল কড়া নজর রাখছে।

নয়ডার শিল্পাঞ্চলগুলোতে বর্তমানে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। পুলিশ জানিয়েছে, যারা আইনের তোয়াক্কা না করে সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করেছে এবং গুজব ছড়িয়েছে, তাদের কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না।