মিষ্টি দেখলেই জিভে জল? কেন চাইলেও চিনি ছাড়তে পারছেন না? হার্ভার্ড বিশেষজ্ঞের এই টোটকাতেই কেল্লাফতে!

রসগোল্লা হোক বা চকোলেট—মিষ্টির নাম শুনলে আট থেকে আশি, সবারই মন ভালো হয়ে যায়। কিন্তু সমস্যা তখন হয়, যখন এই ভালোবাসা নেশায় পরিণত হয়। অনেকেই আছেন যারা দিনে অন্তত একবার মিষ্টি না খেলে অস্থির বোধ করেন। চিনি বা মিষ্টির এই তীব্র আকাঙ্ক্ষা আসলে শরীরের এক গভীর সংকেত। হার্ভার্ডের প্রশিক্ষিত গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডঃ সৌরভ শেঠি সম্প্রতি এই ‘মিষ্টি বিষ’-এর আসক্তি নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য শেয়ার করেছেন।
চিনির নেশা কেন ছাড়তে পারেন না?
ডঃ শেঠির মতে, মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা কেবল মনের খেয়াল নয়, এর পেছনে রয়েছে বৈজ্ঞানিক কারণ:
রক্তে শর্করার ওঠানামা: যখনই আপনি চিনি বা রিফাইনড কার্বোহাইড্রেট খান, রক্তে শর্করার মাত্রা হুট করে বেড়ে আবার দ্রুত নেমে যায়। এই হঠাৎ পতন সামাল দিতে শরীর তৎক্ষণাৎ মিষ্টি জাতীয় খাবার খুঁজে পেতে চায়।
ডোপামিন ও মানসিক চাপ: মানসিক চাপ বা ক্লান্তির সময় আমাদের মস্তিষ্ক স্বস্তি খোঁজে। মিষ্টি খাওয়া মাত্রই মস্তিষ্কে ডোপামিন (সুখের হরমোন) নিঃসৃত হয়, যা সাময়িকভাবে আনন্দ দেয়। এই আনন্দ পেতে মস্তিষ্ক বারবার চিনির দাবি জানায়।
প্রোটিনের অভাব: আপনার দুপুরের বা রাতের খাবারে যদি প্রোটিনের পরিমাণ কম থাকে, তবে পেট বেশিক্ষণ ভরা থাকে না। এর ফলে শরীর দ্রুত শক্তির জন্য শর্করার ওপর নির্ভর করে।
অন্ত্রের রহস্য ও ঘুমের ঘাটতি
আমাদের পেটে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়া বা গাট মাইক্রোবায়োম আমাদের খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করে। খাবারে ফাইবার বা আঁশের অভাব থাকলে এই ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট হয়, যা মিষ্টির প্রতি টান বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া পর্যাপ্ত ঘুম না হলে বা শরীরে জলের অভাব (Dehydration) থাকলেও মস্তিষ্ক একে খিদে বলে ভুল করে এবং মিষ্টি খেতে প্ররোচিত করে।
মিষ্টির আসক্তি কাটানোর ৫টি অব্যর্থ উপায়
ডঃ সৌরভ শেঠি মিষ্টির প্রতি এই তীব্র আকাঙ্ক্ষা কমাতে কয়েকটি সহজ পরামর্শ দিয়েছেন:
১. প্রোটিন বাড়ান: আপনার প্রতিদিনের খাবারে ডিম, ডাল বা পনিরের মতো প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার রাখুন।
২. খালি পেটে মিষ্টি নয়: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো— কখনোই খালি পেটে মিষ্টি খাবেন না। এতে সুগার স্পাইক হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
৩. পর্যাপ্ত জল ও ঘুম: দিনে অন্তত ৩-৪ লিটার জল পান করুন এবং রাতে টানা ৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করুন।
৪. ফাইবার যুক্ত খাবার: ডায়েটে প্রচুর শাকসবজি ও ফল রাখুন যাতে অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো থাকে।
৫. মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন: স্ট্রেস কমাতে যোগব্যায়াম বা পছন্দের কাজ করুন, যাতে ডোপামিনের জন্য চিনির ওপর নির্ভর করতে না হয়।