সংসদে ঐতিহাসিক মুহূর্ত! ৮৫০ আসনে বাড়ছে লোকসভা? মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে মোদী সরকারের মাস্টারপ্ল্যান!

ভারতের সংসদীয় ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া তিন দিনের বিশেষ অধিবেশনে কেন্দ্র সরকারের পাখির চোখ এখন ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ বা মহিলা সংরক্ষণ বিল। এই বিল ঘিরে দেশজুড়ে এক বিশাল ‘আউটরিচ’ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে মোদী সরকার, যেখানে গ্রাসরুট স্তরের কর্মী থেকে শুরু করে বিশিষ্ট মহিলারা সরাসরি সংসদে বসে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকবেন।

লোকসভার আসন সংখ্যা বেড়ে হচ্ছে ৮৫০?
আগামী অধিবেশনে পেশ হতে চলা ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিলের খসড়া ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে। খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী:

আসন বৃদ্ধি: লোকসভার বর্তমান ৫৪৩টি আসন বেড়ে সর্বোচ্চ ৮৫০ হতে পারে।

বিন্যাস: এর মধ্যে রাজ্যগুলি থেকে সর্বোচ্চ ৮১৫ জন এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে ৩৫ জন প্রতিনিধি থাকতে পারেন।

ডিলিমিটেশন: তবে চূড়ান্ত আসন সংখ্যা কত হবে, তা নির্ধারণ করবে একটি পৃথক ডিলিমিটেশন কমিশন।

লক্ষ্য: ২০২৭-এর আগেই ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ
২০২৩ সালে পাশ হওয়া এই আইনের সংশোধনী নিয়ে আলোচনার মূল উদ্দেশ্য হলো—২০২৭ সালের জনগণনার পর নির্ধারিত সীমার আগেই লোকসভা ও বিধানসভাগুলিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন নিশ্চিত করা।

অধিবেশনের নির্ঘণ্ট:

আলোচনার সময়: লোকসভায় ১৮ ঘণ্টা এবং রাজ্যসভায় ১০ ঘণ্টা ম্যারাথন বিতর্ক চলবে।

প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী লোকসভায় এই বিল বাস্তবায়নের পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ তুলে ধরবেন।

ভোটাভুটি: সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী শনিবার এই বিল নিয়ে ভোটাভুটি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কেন এই বিশেষ অধিবেশন গুরুত্বপূর্ণ?
সরকার চাইছে এই বিলটিকে কেবল একটি আইনি প্রক্রিয়া নয়, বরং ‘নারী শক্তির’ জয় হিসেবে তুলে ধরতে। সেই কারণেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মহিলাদের দিল্লিতে এনে সংসদের কার্যক্রম দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে নারী ক্ষমতায়নের বার্তা পৌঁছে দিতে চাইছে কেন্দ্র।

মহিলাদের জন্য এই বিশাল সংরক্ষণ কি ভারতীয় রাজনীতির সমীকরণ বদলে দেবে? আপনার কী মনে হয়? জানান আমাদের কমেন্ট বক্সে।