বই খুললেই দু’চোখে ঘুম! পড়ুয়াদের দশা এবার বাছুরেরও, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও তুঙ্গে

ঘুমপাড়ানি মাসি-পিসিকে আর কষ্ট করে ডাকতে হবে না। ইনসোমনিয়া বা অনিদ্রার মোক্ষম ওষুধ হিসেবে এখন বিশেষজ্ঞ থেকে সাধারণ মানুষ—সবাই বইয়ের ওপরই ভরসা রাখছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইল স্ক্রল করলেও যাদের চোখ থেকে ঘুম উধাও থাকে, বইয়ের পাতা ওল্টালেই তাদের চোখের পাতা ভারী হয়ে আসে। তবে এই ‘বই-নিদ্রা’র তালিকায় এবার যোগ হলো এক অদ্ভুত সদস্য। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, মানুষের মতো বইয়ের পাতায় চোখ রাখামাত্রই ঘুমে ঢলে পড়ছে একটি দুধের বাছুর!
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটিতে দেখা যায়, একটি বাছুর শান্তভাবে মাটিতে পা মুড়ে বসে আছে। তার ঠিক সামনেই একটি পাথরের ওপর একটি বই খোলা রাখা। বাছুরটি কিছুক্ষণ একদৃষ্টিতে বইয়ের পাতার দিকে তাকিয়ে থাকে, যেন খুব মনোযোগ দিয়ে কিছু পড়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু কয়েক মুহূর্ত যেতে না যেতেই দেখা যায় তার চোখের পাতা বুজে আসছে। ঘুম চোখে বাছুরটি একবার ডান দিকে তো একবার বাঁ দিকে ঘাড় হেলিয়ে জুত করার চেষ্টা করে। অবশেষে কোনও উপায় না পেয়ে নিজের শরীরের ওপরই মাথা এলিয়ে দিয়ে গভীর ঘুমে তলিয়ে যায় সে। অবিকল কোনও পড়ুয়ার মতোই তার এই হাবভাব দেখে হেসে লুটোপুটি খাচ্ছেন নেটিজেনরা।
চিকিৎসকদের মতে, বই পড়লে ঘুম আসার পেছনে নির্দিষ্ট বিজ্ঞান কাজ করে। হাঁটাচলা বা কাজের সময় শরীরের সিমপ্যাথেটিক সিস্টেম সক্রিয় থাকে, যা শরীরকে সচল রাখে। কিন্তু বই পড়ার সময় শরীর স্থির ও শান্ত থাকে বলে প্যারাসিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেম সক্রিয় হয়ে ওঠে। এটি শরীরকে বিশ্রামের সংকেত পাঠায়, যার ফলে দ্রুত ঘুম চলে আসে। তবে যারা সত্যি পড়াশোনা করতে চান, তাদের জন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—শুয়ে না পড়ে বসে বই পড়ুন, ঘরে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখুন এবং পড়ার মাঝে মাঝে বিরতি নিয়ে জল পান করুন। কিন্তু বাছুরের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কতটা খাটবে, তা নিয়ে নেটপাড়ায় বইছে হাসির রোল।
View this post on Instagram