‘এটা তো শুধু ট্রেলার, আসল খেলা ৪ মে-র পর!’ আইপ্যাক ডিরেক্টরের গ্রেফতারিতে বিস্ফোরক দিলীপ ঘোষ

বিধানসভা নির্বাচনের উত্তপ্ত আবহে এবার সরাসরি আইপ্যাকের (I-PAC) ডিরেক্টর ভিনেশ চান্দেলের ইডি-র হাতে গ্রেফতারি নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে বোমা ফাটালেন খড়গপুর সদরের বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষ। সোমবার আইপ্যাক কর্তার গ্রেফতারির পরই দিলীপ দাবি করেন, বাংলায় দীর্ঘদিন ধরে চলা কয়লা ও বালি চুরির কালো টাকা আসলে রাজনীতিতেই ব্যবহৃত হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট জানান, এই গ্রেফতারি আদতে একটি ‘ট্রেলার’ মাত্র; আসল অভিযান শুরু হবে ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর।
দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এর আগে কয়লা পাচার কাণ্ডে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম জড়ানো থেকে শুরু করে অনুব্রত মণ্ডল বা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের মতো হেভিওয়েট নেতাদের জেলযাত্রা—সব প্রসঙ্গ টেনেই দিলীপ এদিন আক্রমণ শানান। তাঁর দাবি, এই দুর্নীতির শিকড় অনেক গভীরে এবং ৪ মে বিজেপি সরকার গঠন করলেই সমস্ত দুর্নীতিবাজদের জায়গা হবে জেলে। এর আগেও আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি অভিযান ঘিরে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপ এবং সেই নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে ইডি-র মামলার প্রসঙ্গও নতুন করে উসকে দিয়েছেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, কেন্দ্রীয় সংস্থার এই তৎপরতা তৃণমূলের জন্য অস্বস্তি বাড়ালেও, দুর্নীতির এই জাল ছিন্ন করা নতুন সরকারের কাছে হবে এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। দিলীপের মতে, সাধারণ মানুষের রক্ত জল করা টাকায় ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে রাজ্যে নিয়মিত সংঘর্ষ ও প্রাণহানি ঘটছে। কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির উচিত এই দুর্নীতির ‘মাথা’ খুঁজে বের করা। নির্বাচনের মুখে আইপ্যাক কর্তার গ্রেফতারি এবং দিলীপ ঘোষের এই হুঁশিয়ারি বাংলার ভোটযুদ্ধকে আরও মেরুকরণের দিকে ঠেলে দিল বলে মনে করা হচ্ছে।