রাহুল আসার ২৪ ঘণ্টা আগে তুলকালাম! রায়গঞ্জে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল কংগ্রেসের হেলিপ্যাড

রাজ্যে ভোট শুরুর মাত্র ৯ দিন বাকি। ঠিক এই গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে আজ পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী প্রচারে আসছেন কংগ্রেসের হেভিওয়েট নেতা রাহুল গান্ধী। রায়গঞ্জ, মালদা এবং মুর্শিদাবাদে তাঁর পরপর তিনটি জনসভা করার কথা। কিন্তু রাহুল গান্ধীর পা রাখার ২৪ ঘণ্টা আগেই রায়গঞ্জ স্টেডিয়াম মাঠে তৈরি অস্থায়ী হেলিপ্যাডের একাংশ ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় রণক্ষেত্রের চেহারা নিল রাজনৈতিক ময়দান। অভিযোগের তির সরাসরি রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে।
২০০৬ সালের দীর্ঘ ২০ বছর পর ২০২৬-এ পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটে একা লড়ছে কংগ্রেস। অধীর চৌধুরীর মতো দুঁদে নেতারা যখন ময়দানে জানপ্রাণ লড়ছেন, ঠিক তখনই রাহুল গান্ধীর হেলিকপ্টার নামার স্থান নিয়ে শুরু হলো চরম বিতর্ক। একদা প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সির গড় রায়গঞ্জে এবার কংগ্রেসের বাজি মোহিত সেনগুপ্ত। তাঁর সমর্থনে সভা করতেই রাহুল গান্ধীর আসার কথা। কংগ্রেসের দাবি, মহকুমা শাসকের (SDO) কাছ থেকে লিখিত অনুমতি নেওয়ার পরেও গায়ের জোরে হেলিপ্যাডটি ভেঙে দিয়েছে তৃণমূলের লোকজন।
প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা কংগ্রেস নেত্রী দীপা দাশমুন্সি এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “এসডিও-র কাছ থেকে আমরা অনুমতি নিয়েছিলাম। কিন্তু হঠাৎ সকালে বিশেষ এক রাজনৈতিক দলের নির্দেশে হেলিপ্যাড ভাঙা শুরু হয়। রাজনীতির নূন্যতম সৌজন্যবোধও হারিয়ে ফেলেছে তৃণমূল।” অন্যদিকে, উত্তর দিনাজপুর জেলাশাসক বিবেক কুমার জানিয়েছেন, এনওসি (NOC) দেওয়া হয়েছিল নির্দিষ্ট ইভেন্টের ভিত্তিতে। পুনরায় সভা করতে গেলে আবার এনওসি নিতে হবে।
পাল্টা যুক্তি দিয়েছে তৃণমূলও। উত্তর দিনাজপুর তৃণমূল সহ-সভাপতি অরিন্দম সরকারের দাবি, গত ৩ এপ্রিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভার জন্য এই হেলিপ্যাডটি তাঁদের প্রার্থীর নিজস্ব খরচে তৈরি করা হয়েছিল। তাই মাঠ পরিষ্কার করার দায়বদ্ধতা থেকেই তা সরানো হয়েছে। কংগ্রেস আগে থেকে কোনো নোটিশ না দেওয়াতেই এই বিপত্তি। যদিও শেষ পর্যন্ত কংগ্রেস কর্মীরা নিজেরাই ভাঙা হেলিপ্যাড মেরামত করেন। আজ রায়গঞ্জ স্টেডিয়ামের পাশাপাশি মালদার চাঁচল এবং মুর্শিদাবাদের কৃষিমাণ্ডি মাঠে হুঙ্কার দেবেন রাহুল গান্ধী। এখন দেখার, এই হেলিপ্যাড বিতর্ক ভোটের বাক্সে কতটা প্রভাব ফেলে।